শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ৩:০০:৫৮ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » ৫ মাসেও খোঁজ মেলেনি মুন্নির মির্জাপুরে চলছে শোকের মাতম

৫ মাসেও খোঁজ মেলেনি মুন্নির মির্জাপুরে চলছে শোকের মাতম

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
মোবাইলে রং নাম্বারে প্রেম করে বিয়ে করেছিল মুন্নি।সে বিয়েই তার মত্যুর কাল হয়ে দাড়ালো। আনোয়ার হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের প্রথম স্ত্রী রেহেনা আক্তার(২৫) ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তার(২২) কে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে অপহরনের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গ্রেফতারকৃত আসামীরা মুন্নিকে হত্যা করে লাশ নদীকে ফেলে দিয়েছে এমন স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধিও দিয়েছে।ঘটনার ৫ মাস পরও পুলিশ মুন্নির লাশের কোন সন্ধান করতে পারেননি।পুলিশ লাশের কোন সন্ধান করতে না পারায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মুন্নির বাপের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে।পুলিশের কাছে বার বার আকুতি মিনতি করেও কোন ফলাফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।আজ শনিবার মুন্নির অসহায় পিতা মো. রায়েজ আলী বেপারী(৪৫) ও ঐ গ্রামের সাবেক মেম্বার মো. তমছের আলী(৫৫) ঘটনার সত্যতার কথা জানিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২ নং জামুর্কি ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামে মুন্নির বাড়ি।মোবাইলে রং নাম্বারের সুত্র ধরে আনোয়ারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মুন্নির।আনোয়ারের বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্র্যাক্ষন্দী শ্রীনগর গ্রামে।মোবাইলে আনোয়ার তার প্রথম স্ত্রী রেহেনার কথা গোপন রেখে মুন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জোড়ালো ভাবে গড়ে তুলে।৬ মাস ধরে চলে তাদের প্রেম দেয়া নেয়া।প্রেমের টানে শেষ পর্যন্ত মুন্নিকে তার বাপের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আনোয়ার পুর্বের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে মুন্নি তার প্রথম স্ত্রী উল্লেখ করে কাবিন মুলে বিয়ে করেন।এই ঘটনা প্রথম স্ত্রী রেহেনা বেগম জানতে পেরে মুন্নির উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আনোয়ারের নামে কোর্টে মামলা দিয়ে মুন্নিকে হত্যার হুমকি দেয়।প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আনোয়ার গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
মুন্নির পিতা রায়েজ আলী বেপারী অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী রেহেনা আক্তার, সফর আলী, হেলেনা বেগম, করিমন, তাইজুদ্দিন, হাছেন বানুসহ তার আত্বীয়-স্বজন প্রতারনার ফাঁদ পেতে মুন্নির সঙ্গে ভাল ব্যবহার শুরু করেন।প্রতারনার ফাঁদে ফেলে তারা মুন্নিকে বলে, তোমাকে ও তোমার সহযোগিতা ছাড়া আনোয়ারের জামিন হবে না।তুমি আমাদের সঙ্গে কোর্টে চলো।মুন্নি প্রথমে রাজি না হলেও স্বামী জামিনে ছাড়া পাবে এই ভেবে গত ৯ জুন রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোর্টের দিকে রওনা দেয়।রাস্তায় রেহেনা ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নিকে কোর্টে না নিয়ে সোনারগাও উপজেলার বারদী এলাকায় হাত-পা ও মুখে রুমাল বেঁধে মুন্নিকে রিকসা থেকে নামিয়ে নদীতে নিয়ে একটি ট্রলারে উঠিয়ে রওয়ানা দেয়।নদীর মাঝপথে নিয়ে মুন্নির হাত-পা ও মুখের রুমাল খুলে গেলে কৌশলে মুন্নি তার পিতার কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ঘটনা খুলে বলে।এ সময় মুন্নি ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নির কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।তারপর থেকে থেকে অদ্যবর্তী পর্যন্ত মুন্নির কোন হদিস নেই।মুন্নির পিতা রায়েজ বেপারীর অভিযোগ, প্রথম স্ত্রী রেহেনা ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নিকে কৌশলে অপহরনের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে।তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে।
এদিকে অনেক খোঁজখুঁজির পরও মুন্নিকে না পেয়ে আনোয়ারের বোন সহিতুন বেগম(৪০) বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় গত ১৪ জুন অপহরন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪/১৮৭।মামলার পর পুলিশ করিমুন, নুর জাহান, রেশমী ও কামাল হোসেনকে আটক করেছে।তবে অপহরনের মুল হোতা রেহেনা এবং তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী খুনীরা রয়েছে পুলিশের ধরাছোয়ার বাইরে।তবে আড়াইহাজার থানা পুলিশ তিনজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মুন্নিকে খুন করে নদীতে ফেলে দেয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় মামলার পর কয়েকজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।মুন্নির লাশের কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।লাশ উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে।ঘটনার মুলহোতাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *