বুধবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৮, ১:২৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » হত্যাকারিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা! এবার বিচার জনতার হাতে?

হত্যাকারিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা! এবার বিচার জনতার হাতে?

স্টাফ রির্পোটার, দিনাজপুর ঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শালবাগান এলাকায় সুরুজ আলী নামে একজন ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারি রবিউল ইসলাম রবিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসিরা। পুলিশ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখেছে। এঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লংঘন বলে সচেতন মহলের অভিমত। আইনের কাছে বিচার না পেয়ে জনতাই তার বিচার করেছে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। এবার বিচার জনতান হাতে। রবিউল এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এবং একাধিক হত্যাকান্ডের নায়ক। পুলিশকে কোন তোয়াক্কা করতো না। বোন বড় ধরনের মাদক ব্রবসায়ী। পুলিশের সাথে বোনের ছিল গভীর সম্পর্ক। ভাই রবিউল ধরা পড়লে মিনিটেই থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতো।
সুরুজকে হত্যার পর শহিদ নামে একজন নৈশ্য প্রহরি এবং তার শিশু পুত্র একরামুল হক শামিমকে কুপিয়ে আহত করেছে রবিউল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ভোরে হত্যাকান্ডের এঘটনার ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসিরা সকাল ৯টা পর্যন্ত দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টায় স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ী ফেরার সময় প্রথমে হামলার শিকার হন বীরগঞ্জের জগদল ডাঙ্গাপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা ভ্যান চালক সুরজ মিয়া।রবিউল ইসলাম এলোপাথারি কুপালে ঘটনাস্থলে প্রান হারান সুরুজ। এঘটনার পর পরেই একই এলাকার একটি মুরগী ফার্মের নৈশ্য প্রহরি শহিদ এবং ৩ বছর বয়সী শিশু পুত্র একরামূল হক শামিমকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম। হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়কে অবরোধ করে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। এর মধ্যে সকাল পৌনে ৮টার দিকে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা পলাতক হত্যাকারী রবিউল ইসলামকে কবিরাজহাট নামক এলাকায় আটক করে ঘটনাস্থলে ধরে এনে অমানবিক মারধর করতে থাকে এক পর্যায়ে রবিউল ইসলামকে পিটিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। এই জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার সময় বীরগঞ্জ পুলিশ ঘটনাস্তলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরানোর দৃশ্য দেখছিলেন। পুলিশের চোখের সামনে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলো আর পুলিশ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিলেন। রবিউল ইতিপূর্বে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু বীরগঞ্জ পুলিশ তার বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে রবিউলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দিন দিন আরো বেড়ে গেছে। জানা গেছে রবিউল বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং এলাকার এমপির এপি,এস এর ঘনিষ্ঠ সহচর। ফলে রবিউলের দাপট ছিল লাগামহীন। কিন্তু যেভাবে হত্যা করা হয়েছে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না বলে সচেতন মহলের অভিমত। জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সময় বীরগঞ্জ সার্কেলের এ,এস,পি ও বীরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ সহ শতাধিক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুড়ে চাই হওয়া লাম নিয়ন্ত্রনে নেয়।। দমকলকর্মীদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে রবিউলের পুড়ন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩ ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। অপরদিকে ঘাতক রবিউল ইসলামের বসতবাড়ী গুড়িয়ে দিয়েছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসি। এসময় বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে রক্ষা পিয়েছে তার পিতামাতাসহ স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে সুরজ মিয়ার ভাতিজার চা দোকানদার বসির উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও আরো কয়েক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সে। জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি প্রকাশ্যে দিবালোকে এবং পুলিশের সামনে ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *