সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮, ১২:৪৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের চারজন নিহত নতুন ঘর তৈরি করার স্বপ্ন পূরণ হল না এনতাজুলের

সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের চারজন নিহত নতুন ঘর তৈরি করার স্বপ্ন পূরণ হল না এনতাজুলের

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন থেকে টিনের চালার মধ্যে বসবাস করে আসছিল এনতাজুল। স্বামী ও স্ত্রীর চাকরির জমানো কিছু টাকা বাবার হাতে দিয়ে বলেছিল রড,সিমেন্ট কিনে কংকিরিটের খঁটি তৈরি করে রাখতে। আগামি ৬ মাসের মধ্যে বাড়িতে এসে নতুন ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পুরন হল না এনতাজুলের। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বললেন এনতাজুলের বাবা আলিম উদ্দিন। তিনি বলেন সংসারে উপার্জক্ষম একমাত্র সম্বল ছিল এনতাজুল । এখন কে আমার সংসার চালাবে। অনেক আশা, আনন্দ নিয়ে ঈদের আগের দিন ঢাকা থেকে বাড়িতে এসছিল এনতাজুল মিয়া (২৬) , তার স্ত্রী কাকলী বেগম (২২), কর্ন্যা হেনা আকতার (৪) ও রড় বোন আফরোজা বেগম। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নাচনি ঘঘেয়া গ্রামের বাড়ি হতে আটোযোগে ঢাকা যাওয়ার উদেশ্যে গাইবান্ধা যায়। সেখান থেকে ঈদের আগে ঢাকা থেকে আসা সাউদিয়া পরিবহন নিমিটেডের দরবার সিটিং সার্ভিসে রাতে ঢাকার উদেশ্যে রহনা দেয়। এরই এক পর্যায়ে রাত ১২টার সময় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কের রাইচ মিল নামকস্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা কাকড়া গাড়ীর মুখোঁমুখি সংঘর্ষে দরবার সিটিং সার্ভিস দুমরে মুচরে যায়। ঘটনাস্থলেই এনতাজুলসহ তার স্ত্রী, কর্ন্যা ্ও রড় বোন মারা য়ায়। শনিবার দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি থানা থেকে এক পরিবারের চারজনের লাশ নিয়ে আসে স্বজনরা। লাশ আসার খবর পেয়ে হাজারও নারী পুরুষ ভিড় করতে থাকে এনতাজুলের বাড়ির সামনে। লাশ পৌঁচ্ছা মাত্রই এলাকাবাসি এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। কান্নার রোল যেন মানুষকে জাগিয়ে তোলে। আজ থেকে ১২বছর আগে প্রবিবেশি কাকলী বেগমকে বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করে এনতাজুল। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে এনতাজুল সবার ছোট। বসতবাড়ির জায়গা জমি নাই তার বাবার। নানার বাড়িতে এসে মায়ের সম্পতির মধ্যে টিনের চালায় বসবাস করে আসছিল। বিয়ের কিছুদিন পর জন্ম নেয় ফুটফুটে হেনা আকতার । হেনা হাটতে শেখায় নতুন ঘর তৈরি স্বপ্ন নিয়ে পাঁচ বছর আগে স্ত্রীসহ চলে যায় ঢাকায়। চাকরি নেয় আশুলিয়ার কামার পাড়ার সিসিএফ গার্মেন্সে । আর তার বোন আফরোজা চাকরি করত আশুলিয়ার নরসিংহপুর ভিনটেক গার্মেন্সে। একসঙ্গে বোনসহ বসবাস করত তারা। আফরোজাও থাকত তার বাবার ভিটায়। আফরোজা বেগমের স্বামী শাহিন মিয়া জানান- তিনি রাতে গাইবান্ধায় দরবার সিটিং সার্ভিসে স্ত্রীসহ চারজনকে তুলে দিয়ে বাড়িতে চলে আসে। ভোরে খবর পান সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রীসহ চারজন মারা গেছে। পলাশবাড়ি প্রসাশনের পক্ষ হতে এনতাজুলের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে স্থানয়ি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম পরিবারটিকে ১০হাজার টাকা প্রদান করেছে। শনিবার বাদ আসর নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক করবস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *