মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮, ৩:০৭:০৪ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রংপুর » সৈয়দপুরে ছিন্নমুল শিশুদের মুখে বিরিয়ানী দিয়ে ব্যতিক্রম ভালবাসা দিবস উদযাপন

সৈয়দপুরে ছিন্নমুল শিশুদের মুখে বিরিয়ানী দিয়ে ব্যতিক্রম ভালবাসা দিবস উদযাপন

সৈয়দপুর, নীলফামারী সংবাদদাতাঃ ১৪ ই ফেব্র“য়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আর এই ভালোবাসা দিবসের ফুল, গিফট দেওয়া-নেওয়ার চিরাচরিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে এবার ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে অন্যরকম এক ভালোবাসা দিবস পালন করেছে সৈয়দপুরের অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন “আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর”। এদিন ৩ শতাধিক ছিন্নমুল শিশুদের বিরিয়ানী খাইয়ে দিয়ে ব্যতিক্রম ভালবাসা দিবস উদযাপন করেছে সংগঠনের সদস্যরা। বছরে শ’শ দিবস আসে যায় তবে এ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কিছু আসে যায় না। তাদের খবরও কেউ রাখে না। কিন্তু ব্যাতিক্রমি আয়োজনে ভালবাসার আসল মর্ম সবার কাছে তুলে ধরলো আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর।
মূলত নিজেদের পকেট খরচ আর এদিন উপলক্ষ্যে ২টি গোলাপের শতটাকা জমা করে ব্যতিক্রম এ কর্মসূচীর আয়োজন করে আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত শহরের গোলাহাট কবরস্থান ঈদগাহ্ ময়দানে ছিন্নমুল শিশুদের নিয়ে আয়োজন চলে আমাদের সত্যিকারের ভালবাসা দিবস ওই কর্মসূচীর। এ সময় ৩ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বসিয়ে খাইয়ে ও হাতে বিরিয়ানীর প্যাকেট তুলে দেয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়া পরে অসহায়দের বাসায় বাসায় গিয়েও দেওয়া হয় ওই বিরিয়ানীর প্যাকেট।
এর আগে আগত শতাধিক ছিন্নমুল শিশুদের নিয়ে ঈদগাহ্ মাঠে ঘন্টাব্যাপী চলে দেশপ্রেম সম্পর্কে ধারণা, গল্প বলা,কবিতা আবৃত্তি, ভাষা জ্ঞানের আসর ও কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহন করে শিশুরাই। আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর (এপিএস) অর্থ সম্পাদক মোঃ সাজিদ সাজুর উপস্থাপনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আজিম, সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আনসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিথুন হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাকিম, ইব্রাহিম, রাজা, রুবেল, জীবন, সোহেল, শাহজাদা, কামাল, গুলজারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। পরে বিজয়ী শিশুদের হাতে শিক্ষামূলক উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এ আয়োজনের ব্যাপারে আমাদের প্রিয় সৈয়দপুরের সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আনসারী বলেন, ভালবাসা দিবসে ছিন্নমুল শিশুদের সাথে ভালবাসা ভাগাভাগির জন্য ব্যতিক্রম এ আয়োজন আমাদের। মূলত ভালবাসার আসল মর্মটা সকলের কাছে তুলে ধরতেই প্রতি বছর ভালবাসা দিবসে আমরা এভাবেই পালন করে আসছি। আমরা ৫০ টাকার গোলাপ খরিদ না করে সে টাকা জমা করে অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সদস্যরা নিজেদের পকেট খরচ বাঁচিয়ে এসব ব্যবস্থা করেছে।
সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা জানান, ‘সংগঠনের স্বপ্ন ছিল অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ সবার মাঝে তুলে ধরার। কিছুটা হলেও সমাজকে আমরা এই বার্তা দিতে পেরেছি। অসহায়দের পাশে থাকার এই চেষ্টা এই স্বেচ্ছাশ্রম অব্যাহত থাকবে আমাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *