বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮, ১১:২১:৪০ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রংপুর » সুনামগঞ্জের আদালতে র‌্যাংগস মটরস লিঃ এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সুনামগঞ্জের আদালতে র‌্যাংগস মটরস লিঃ এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
র‌্যাংগস মটরস লিঃ এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অপর ২ আসামীরা হচ্ছেন কোম্পানীর সুনামগঞ্জ শাখার ম্যানাজার পল্লব হোসেন ও আমিনুল হক। জেলার দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের মৃত ছাদিকুর রহমানের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/৪২০ ও ৩৪ ধারায় সিআর ১১০/২০১৮ নং মামলাটি দায়ের করেন। আমলগ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সদর জোনের বিচারক মোঃ রহিবুল ইসলাম দায়েরকৃত মামলাটি তদন্তের জন্য বিআরটিএর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান,এই কোম্পানীটি সরকারের কাছ থেকে পিকআপ গাড়ী বিক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু তারা বিক্রয় করে যাচ্ছে হিউম্যান হলার লেগুনা গাড়ী। সরকারের সাথে প্রতারনার পাশাপাশি তারা ক্রেতাদেরকেও নানাভাবে প্রতারিত করছে। তাদের পরিকল্পিত প্রতারনার শিকার হয়েছেন ছাতক উপজেলার বড়কাপন নিবাসী আব্দুস ছালাম,দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর নিবাসী রাশেদ মিয়া,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া নিবাসী শাহ আলম ও দক্ষিণ আলমপুর গ্রামের কুবাদ আলী তালুকদার এবং সদর উপজেলার জানীগাঁও গ্রামের লেচু মিয়াসহ নাম নাজানা আরো অনেক ক্রেতা। মামলার বিবরনে প্রকাশ,২০১৬ইং সনের ২৮ ডিসেম্বর বুধবার বেলা ২টায় র‌্যাংগস মটরস লিঃ সুনামগঞ্জ শাখার মল্লিকপুরস্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাণ শোরুম হতে মাহিন্দ্রা জিতো মডেলের হিউম্যান হলার (লেগুনা) গাড়ি বিক্রেতাদের দেয়া অলিখিত ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর দিয়ে কিস্তিতে ক্রয় করেন মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য ক্রেতাগন। কথিত বিক্রেতারা শুধুমাত্র গেইটপাস দিয়ে কোনপ্রকার বিক্রয় রসিদ ছাড়া তাদেরকে গাড়ী হস্তান্তর করে। এসময় নজরুল ইসলামসহ অপরাপর ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছে ওয়ারেন্টি কার্ড ও রসিদ চাইলে দেই দিচ্ছি করে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে তারা। ক্রয় করার পর গাড়ীর যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে কোন কোন ক্রেতারা গাড়ীগুলি শোরুমে নিয়ে গেলে সেখানে নষ্ঠ হওয়া যন্ত্রপাতির কোন অস্তিত্ব পাননি। সুনামগঞ্জে ঐ কোম্পানীর কোন মেরামত প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিক্রেতারা তাদের বিক্রয়কৃত গাড়ীগুলি সিলেট ওয়ার্কসপে পাটিয়ে মেরামতের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা নেন। প্রায় ৩ মাস সিলেটের ওয়ার্কসপে গাড়ীগুলি পড়ে থাকায় এবং গাড়ী না চালানোর কারনে অনেক ক্রেতারা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিক্রেতারা ক্রেতাদের গাড়ী তাদের মতামত ছাড়াই অন্যত্রে বিক্রয় করে দেয়। এ ব্যাপারে গত ৫ মার্চ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শোরুমে গিয়ে কোম্পানীর ম্যানাজারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বাদী মুক্তিযোদ্ধাকে ব্ল্যাংক চেক এর মামলার ভয় দেখান। উপায়ান্তর না দেখে প্রতারিত ক্রেতাদের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম প্রথমে আসামীদেরকে একটি লিগ্যাল নোটিস পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক অভিযোগটির তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিলে পুলিশ এ ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এমনকি ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর রোডস্থ ১১৭/এ (লেভেল-৪) নং ঠিকানায় অবস্থিত কোম্পানীর প্রধান কার্যালযে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) এর সাথে দেখা করেও মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামসহ প্রতারিত গাড়ী ক্রেতারা কোন ন্যায়বিচার পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতারিত মুক্তিযোদ্ধা আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ৮ মার্চ প্রতারিত গাড়ী মালিকদের পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট অমিয়াংশু চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *