শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮, ১০:৪৩:০২ অপরাহ্ণ
Home » স্বাস্থ্য » সর্দি লেগেছে নাকি?

সর্দি লেগেছে নাকি?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নাক ঝাড়তে ঝাড়তে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তখন ভাবছেন হাচিঁ দিতে দিতে জীবন বুঝি এখানেই শেষ। আপনার এই দশার জন্য আসলে ভাইরাসের সংক্রমণ দায়ী।

 

সর্দি এমন একটি অসুখ যার কোনো মৌসুম নেই। যেকোনো সময় আপনি আক্রান্ত হতে পারেন সর্দিতে। হুটহাট করে সর্দি লেগে যেতেই পারে। আপনি যদি কিছু নিয়ম মেনে চলেন তবে রক্ষা পাবেন সর্দি থেকে। সর্দি কাশির জীবাণু খুব সহজেই আপনার চোখ অথবা নাকের ভেতর দিয়ে সংক্রমিত হতে পারে।

 

সর্দি লেগে গেলে মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, বুকে কফ জমে যাওয়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যাদের ঠাণ্ডা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে এ সময় তারা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন। কেউ কেউ ছোট সমস্যা ভেবে একে উপেক্ষা করেন। এটা কিন্তু ঠিক নয়।

 

সর্দি আসলে কি?

 

এটা আসলে ভাইরাসের কারণে তৈরি এক ধরনের অসুস্থতা। ভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না আর বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য এর একটি জীবন্ত প্রাণী বা গাছের সহায়তা দরকার হয়। তার মানে, যখনই একটি ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করে, তখনই সে আপনার কোষগুলোতে দখলদারীর তোরজোড় শুরু করে দেয়।

 

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিভাবে কাজ করে?

 

এ সময়েই কাজ শুরু করে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এর কাজই হলো ক্ষতিকর কোনো উপাদান শরীরে ঢুকে পড়লে তা চিহ্নিত করে সেটাকে ধ্বংস করে ফেলা। তাই যখনই ফ্লু এর ভাইরাস শরীরে ঢোকে, তখনই সেখানে পৌঁছে যায় লাখো শ্বেত রক্ত কণিকা যা চেষ্টা করে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে। সেজন্য –

 

কিছু শ্বেত রক্ত কণিকা ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে চারপাশ থেকে ঢেকে নিয়ে মেরে ফেলে।

 

কিছু আবার তৈরি করে অ্যান্টিবায়োটিক, যা কোষের দেয়ালে লেগে থেকে ক্ষতিকর উপাদান চিহ্নিত আর ধ্বংস করতে সাহায্য করে। আবার কিছু শ্বেত রক্ত কণিকা সরাসরি ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করে ফেলে।

 

যে সময় আপনার শ্বেত রক্ত কণিকা লড়াই করছে আপনার শরীরে ঢুকে পড়া ক্ষতিকর উপাদানগুলোর সঙ্গে, সে সময়েই আপনার দেহে সর্দি বা ফ্লু এর লক্ষণগুলো দেখা দেয়। যেমন, আপনার নাক বন্ধ হয়ে যায়, কারণ শ্বেত রক্ত কণিকা আপনার নাকের রক্তনালীতে গিয়ে সেটাকে ফুলিয়ে দেয়। ফলে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আর সর্দির কারণও হলো শ্বেত রক্ত কণিকা আর ভাইরাসের যুদ্ধ।

 

মজার ব্যপার হলো আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখনই মুখোমুখি হয় কোনো ভাইরাসের, এরপর থেকেই তারা সেই ভাইরাসের সাথে লড়ার কৌশল শিখে ফেলে। যাতে পরবর্তীতে সেই ভাইরাস আর আক্রমণ করতে না পারে। একেই বলে ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া।

 

এখন প্রশ্ন হলো ইমিউনিটি যদি তৈরিই হলো, তাহলে কিছুদিন পরপরই আমাদের ঠাণ্ডা লাগে কেন? সমস্যা হলো, ফ্লু এর ভাইরাস আসলে অনেক ধরনের। আর সবগুলোর জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব না। আর এই ভাইরাসগুলো বিবর্তনের পথ ধরে বদলাতে থাকে ক্রমাগত। তাই এই কাজটা হয়ে যায় আরো কঠিন।

 

তাহলে সর্দিকে কিভাবে হার মানাবেন আপনি?

 

নীচের এই কাজগুলো করলেই আপনি সর্দি থেকে বাঁচবেন তা কিন্তু হলপ করে বলা যাচ্ছে না। প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তিই বছরে অন্তত দুবার ফ্লু এ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এই প্রকোপ আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে নিশ্চিত।

 

সারাদিনে সাবান এবং গরম পানি দিয়ে কয়েকবার হাত ধুয়ে নিন।

 

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে ঠিকমতো খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান।

 

ঠাণ্ডা যদি লেগেই যায় তাহলে বেশী করে পানি খান, লবণ পানি দিয়ে গার্গল করুন, তাতে গলা ব্যথা কমবে, বন্ধ নাক পরিষ্কারের জন্য ব্যাবহার করুন ন্যাসাল স্প্রে, গায়ে ব্যথা করলে প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফিন বা এসপিরিন খেতে পারেন, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *