বুধবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৮, ৯:১৮:২৮ অপরাহ্ণ
Home » স্বাস্থ্য » শরীরে ব্যথার স্থানে কেমন সেঁক দেবেন?

শরীরে ব্যথার স্থানে কেমন সেঁক দেবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীরে ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দেবেন, নাকি ঠাণ্ডা সেঁক? কোনটা উপকারী? এ নিয়ে অনেকে নানা ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দে পড়েন। শারীরিক ব্যথা-যন্ত্রণায় ভোগেন না, এমন মানুষ নেই। কখনো মেরুদণ্ডের ব্যথা, কখনো কোমরের ব্যথা, কখনোবা পায়ের ব্যথা চরম ভোগায়। এসব ব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে গরম ও ঠাণ্ডা পানির টোটকা ব্যবহার করা যায়। কোন ধরনের ব্যথায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

যে কোনো ইনজুরিতে গরম সেঁক মনে হতে পারে একটি চমৎকার চিকিৎসা। এর ফলে আপনি যেমনই ভালো অনুভব করেন না কেন, নিরাময়ের জন্য গরম সেঁক সর্বাধিক কার্যকর উপায় নাও হতে পারে। শরীরের যে কোনো ব্যথায় কখন গরম সেঁক এবং ঠাণ্ডা সেঁক অর্থাৎ বরফ ব্যবহার করতে হয় তা সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন?

 

এ প্রশ্নের সর্বোত্তম উত্তর দেওয়া যাবে ইনজুরির প্রকারভেদ (অ্যাকিউট ইনজুরি এবং ক্রনিক ইনজুরি) অনুসারে চিকিৎসা এবং চিকিৎসার টাইমিং (ওয়ার্কআউটের পূর্বে ও পরে) বিবেচনা করে।

 

অ্যাকিউট ইনজুরি হচ্ছে সেটি যা গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হয়েছে। এটি সাধারণত হঠাৎ আঘাতের ফলে হয়ে থাকে, যেমন- পড়ে যাওয়া, ধাক্কা খাওয়া অথবা সংঘর্ষ হওয়া। ব্যথা, ইনজুরির স্থানে স্পর্শজনিত ব্যথা বা অস্বস্তি, লালতা, উষ্ণ ত্বক এবং ফোলা হচ্ছে অ্যাকিউট ইনজুরির লক্ষণ ও উপসর্গ।

 

ক্রনিক ইনজুরি অ্যাকিউট ইনজুরি থেকে ভিন্ন। এটি সাধারণত ধীরে ধীরে ডেভেলপ হয়, যা শরীরের কোনো অংশের অতিরিক্ত ব্যবহার অথবা গুরুতর আঘাত অনুপযুক্ত চিকিৎসায় আরোগ্যলাভে হতে পারে। ক্রনিক ইনজুরি যে শুধু একটানা যন্ত্রণা দেবে এমনটা নয়, এর ব্যথা আসা-যাওয়া চক্রের মধ্যে থাকতে পারে অথবা ব্যথা নিস্তেজ হতে পারে।

 

অ্যাকিউট ইনজুরির জন্য বরফ হচ্ছে প্রমাণিত চিকিৎসা। বিশেষ করে এটি ফোলা হ্রাস এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। যত তাড়াতাড়ি বরফ প্রয়োগ করা যাবে, এ চিকিৎসা তত বেশি কার্যকর হবে, তাই ইনজুরি হওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরফ ব্যবহারে কার্যকরী ফল পাওয়া যেতে পারে।

 

পিঠের ব্যথা

 

অনেক দিনের পিঠব্যথায় যারা ভুগছেন, তারা ভাবেন গরম পানিতে একটু গোসল করলে আরাম লাগবে। গরম পানির সেঁক দিলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং বরফের ঠান্ডা প্যাক ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যথার জায়গায় দু-তিন দিন আইসপ্যাক দিলে পিঠের ব্যথা কমে যায়। তবে যদি ধারাবাহিকভাবে পিঠে ব্যথা করে, সে ক্ষেত্রে গরম সেঁক ভালো ফল দিতে পারে।

 

মাসিকের ব্যথা
মাসিকের সময় মেয়েদের অনেকেই হালকা থেকে চরম ব্যথায় ভোগেন। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন না চিকিৎসকেরা। তবে জরায়ুর মাংসপেশি শিথিল করতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গরম সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। স্বস্তির জন্য গরম পানিতে গোসল করা ভালো।

 

ব্যথা

 

কাজ শুরুর আগে সবারই উচিত গা গরম করে নেওয়া। হাঁটু আর কনুইটা একটু নড়াচড়া করে নেওয়া। এমনটা না করে কাজ শুরু করলে ব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বরফ-থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। তবে কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে নয়, অন্তত ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে। এতে আরাম পাওয়া যাবে।

 

গোড়ালির ব্যথা

 

একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করলে বা জুতাটা কায়দামতো না হলে গোড়ালির ব্যথা হয় অনেকেরই। এই ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য লোকজন গরম সেঁক দিতে বলে। সেটা ঠিক উপদেশ নয়। বরং ঠান্ডা পানি ব্যবহারে গোড়ালির ব্যথা প্রশমিত হয়।

 

গেঁটে বাত

 

গেঁটে বাতের ব্যথা কী যে যন্ত্রণার, যার আছে সে-ই বোঝে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ব্যথা কমানোর উপায় কী? ঠাণ্ডা, গরম, নাকি উভয়ের ব্যবহার? বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরম সেঁক দিলে ব্যথার স্থানের মাংসপেশিগুলো শিথিল হয়। এতে করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। আবার বরফ ব্যবহারে প্রদাহ কমে। ফলে একবার গরম, আরেকবার ঠান্ডা ব্যবহারে গেঁটে বাতে আরাম পাওয়া যায়।

 

ঠাণ্ডা সেঁক

 

কোনো অ্যাকিউট ইনজুরির পর বরফ প্রয়োগ করুন, যেমন- গোড়ালি মচকানো অথবা ক্রনিক ইনজুরির প্রকোপ বাড়ায় এমন কার্যক্রম (শিন স্প্রিন্ট বা জঘাস্থিতে ব্যথা)। কিউবড আইস ব্যাগ, আইস প্যাক অথবা আইস ম্যাসাজ প্রয়োগ করুন। আইস প্যাকে আইস কিউব না থাকলে ফ্রস্টবাইট বা বরফজনিত প্রদাহ প্রতিরোধ করতে ত্বক ও বরফের মাঝখানে একটি পাতলা তোয়ালে রাখুন। একবারে ২০ মিনিটের বেশি সময় বরফ ব্যবহার করা উচিত নয়। অধিক সময় বরফ ব্যবহার মানে অধিক উপশম নয়। নিশ্চিত হোন যে বরফ প্রয়োগে আক্রান্ত অংশ অবশ হয়েছে এবং তারপর নিশ্চিত হোন যে ত্বক সম্পূর্ণভাবে পূর্বের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

 

গরম সেঁক

 

যেসব কার্যক্রমের আগে ক্রনিক ইনজুরির প্রকোপ ঘটায়, যেমন- পেশীতে টান পড়া। এসব ক্ষেত্রে গরম সেঁক নিন। গরম সেঁক টিস্যু ও আক্রান্ত স্থান শিথিল করতে সহায়তা করে। হিটিং প্যাড অথবা গরম পানিতে ভেজা তোয়ালে দিয়ে তাপ প্রয়োগ করুন। একবারে ২০ মিনিটের বেশি সময় নয়। ঘুমানোর সময় কখনো গরম সেঁক নেবেন না। নিজেকে না পোড়াতে সতর্ক থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *