সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, ১:৩৪:০৮ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রাজশাহী » রাজশাহী আইএইচটি: ছাত্রীদের গণধর্ষণের হুমকিতেই প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী আইএইচটি: ছাত্রীদের গণধর্ষণের হুমকিতেই প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’র(আইএইচটি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঝে মাঝেই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় কথা বলতো। তারা ছাত্রীদের বাবা মা তুলে কথা বলতো। তাদের কথা না শুনলে ছাত্রীদেরকে গণধর্ষণের হুমকিও দিতো। আবার হোস্টেলের ভেতরে ঢুকে গাছের ফল পাড়তো। যদিও হোস্টেলের ভিতর কোনো ছেলের প্রবেশের অনুমতি নেই।  এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গত ৩ ডিসেম্বর আবারও ছাত্রীদর প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দেয়। এ নিয়ে বুধবার সকাল থেকে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবাদ শেষে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে ফেরার পথে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনার পরে সাংবাদিকদর সামনে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ৪ ছাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের তিনজনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এমন অভিযোগের  বিষয়ে অধ্যক্ষ জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম তারা আমার কাছে অভিযোগ করেছে। তবে বষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ছাত্রীরা  জানায়, রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রীদের ছাত্রলীগ কর্মীদ্বারা উত্যক্ত করা। হোস্টেলের ছাত্রীদের গণধর্ষণ ও তাদের পরিবারের লোকজনদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়।

ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, গত তিন ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট তাদের বরিশাল আইএইচটির দুজন ছাত্রী অসুস্থ। তাই তাদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন কর্মীসূচি পালনের কথা ছিলো। সেখানে যেতে বাধা দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, এসময় হোস্টেলের ছাত্রীরা বাইরে আসতে চাইলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে । এঘটনায় পরে আইএইচটি ছাত্রলীগের নেতারা ছাত্রীদের ডেকে পাঠায়। এতে অসুস্থতার কারণে কয়েকজন ছাত্রী আসতে পরেনি। এতে আইএইচটি ছাত্রলীগের নেতা তুহিন, মুন্নাফ, তুহিন, কাইউম ও নাইম অকুথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীরা ছাত্রীদের হুমকি দয়ে বলে, ভেতরে যেতে হলে, সবাইকে গণধর্ষণ করবো। ছাত্রীদের মা-বাবা ও বোনকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে তারা। এছাড়া হোস্টেলের ছাত্রীরা বাইরে আসলে তাদের নানাভাবে লাঞ্চিতও করবে বলেও হুমকি দেয়।

ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন আগে এক ছাত্রীর ছোট ভাই তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে আসে। এসময় তাকেও নানাভাবে হুমকি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পর ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ অধ্যক্ষের নকট লিখিত অভিযোগ করে। পরে ওই ছাত্রীকে নিকট ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন জাহিদ।

আইএইচটি হোস্টেলের রেডিও থেরাপি বিভাগর এক ছাত্রী বলেন,  আইএইচটি ছাত্রলীগের ছেলেরা ছাত্রীদের গণধর্ষণ করবে এমন হুমকি দেয়। তারা বিভিন্ন সময় মা-বাবা ও বোনকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। ছাত্রলীগের অনকের ছাত্রত্ব নেই। তার পরেও এখানে রাজত্ব করে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে জানালে তিনি কোনো পদক্ষে নেন না।

আহত শিক্ষার্থী নাবিলা বলেন,  গত তিন ডিসেম্বর  মানববন্ধন কর্মীসূচিতে বাধাসহ ছাত্রীদের গণধর্ষণে হুমকি, মা-বাবা ও বোনকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালির কথা বলতে যাওয়া হয়। এ বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষে রুমের ভেতরে কথা চলছিল।  এসময় আইএইচটি ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে গালাগাল শুরু করে। আমাদের রুমে ভেতরে আটকে রাখে।

পরে পুলিশ ও শিক্ষকরা আমাদের হোস্টেলে ফিরে যেতে বলে। এসময় আইএইচটি ছাত্রলীগের ছেলেরা ছাত্রীদেরসহ ও শিক্ষকদের গালাগালি করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষ করে হোস্টেলের গেটে ছাত্রীদের উপর হামলা চালায়।

এ হামরায় চার ছাত্রী আহত হন। ছাত্রীরা হলেন, প্রথমবর্ষের ছাত্রী মোহনা, ফার্মেসী বিভাগের ছাত্রী জতি, একই বিভাগের ছাত্রী নাবীলা ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মীম। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে পৌছে তাদের তাড়িয়ে দেয়।  এ নিয়ে বর্তমানে আইএইচটি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিয়ে কোন ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কৃর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে ছাত্রলীগ ও হোস্টেলের ছাত্রীদের মধ্যে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেন। আজ বুধবার বেলা একটার মধ্যে ক্যাম্পাসের সকল হোস্টেল ত্যাগ করতে হবে ছাত্রদের। এর বিকেল তিনটার মধ্যে ছাত্রীদের হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আইএইচটি এর অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম  নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার সকালে ছাত্রীরা অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রীরা আইএইচটি এর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আসলে। তারা ধাওয়া দিয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে মহিলা হোষ্টেলের গেটে পিটিয়ে আহত করে।

আইএইচটি এর অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিলো। তাদের হোস্টেলে চলে যেতে বলা হয়েছে। কোন অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আহত ছাত্রীদের বিষয়ে তিনি জানেন না।

প্রসংঙ্গত, বুধবার সকালে রাজশাহী আইএইচটিতে ছাত্রীগের উপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ৪ ছাত্রী আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য আইএইচটি হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *