মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ১২:৫৭:০১ পূর্বাহ্ণ
Home » আন্তর্জাতিক » রাজনৈতিক চাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক চাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ও বিরোধী দলের নেতা বিল ।প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ও বিরোধী দলের নেতা বিল শর্টেন।অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি ভিন্ন অংশে পাঁচটি উপনির্বাচন হচ্ছে এই মাসের শেষ দিকে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে এ আসনগুলো শূন্য হয় কয়েক মাস আগে। উপনির্বাচনে অস্তিত্বের লড়াইয়ে লড়ছে সরকারি ও বিরোধী দল। তার মধ্যে বিশেষ করে দুটি নির্বাচন নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে উভয় দলই।

অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের ধারণা, পার্থ ও ফ্রিম্যান্টালের উপনির্বাচনের ফলাফল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে এই আসনগুলোর দখলে নিতে সবাই ব্যস্ত।

সরকারি দল লিবারেল পার্টি এই দুটি আসনে জয়লাভ করতে পারেনি কখনো। তাই উপনির্বাচনের সুযোগে তারা সেখানে জয়লাভ করতে একটু বেশি মনোযোগী।

কুইন্সল্যান্ডের লংম্যান ও তাসমানিয়ার ব্রেডনে লেবার-লিবারেল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে বিভিন্ন জরিপ প্রতিদিনই আভাস দিয়ে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত লেবার পার্টি ভালো প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে হঠাৎ করে ভোটাররা লিবারেলের দিকে ঝুঁকে গেলে লেবার পার্টি মাঠে মারা যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় জীবনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে দেশটির আসন্ন ৪৬তম জাতীয় নির্বাচন। বর্তমান লিবারেল পার্টির সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলছে। আগামী ৪ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মের মধ্যে সিনেট ও ২ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ২৮ জুলাই থেকে দেশটির পাঁচটি রাজ্যের ভিন্ন অংশে পাঁচটি উপনির্বাচন হচ্ছে। যদিও সাধারণভাবে উপনির্বাচন দেশের জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে এবারের উপনির্বাচনের ফলাফল দেশটির পরবর্তী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন জরিপ বলছে, দেশটির বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের চেয়ে ভোটার-সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী দলের প্রধান বিল শর্টেন। লিবারেল পার্টির চেয়ে লেবার পার্টি নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দান টেরিটোরি রাজ্যে এগিয়ে রয়েছে। দলের প্রতি এই জনসম্মতি বজায় থাকলে উপনির্বাচনের ফলাফলে বিশাল পরিবর্তন আসতে পারে। উপনির্বাচনের আগে জনমতের এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কায় আছেন প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল।

অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে দলের ভেতরে নিজেদের অবস্থান নিয়েও ধাক্কাধাক্কি চলছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লিবারেল দলের প্রধান টার্নবুল ও তাঁর দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছে।

দলের ভেতরে রেষারেষিতে বিরোধী দল লেবার পার্টিও পিছিয়ে নেই। দলটির বর্তমান প্রধান বিল শর্টেনের বিপক্ষে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে আছেন অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।

আগামী নির্বাচনে সরকারি দল লিবারেল পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে চাপে রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ বাকি নেতারা। এ অবস্থায় ২৮ জুলাইয়ের উপনির্বাচনে লিবারেল দল ভালো ফল করতে ব্যর্থ হলে প্রধানমন্ত্রিত্ব নিজ দলের নেতৃত্ব হারাতে পারেন টার্নবুল।

একই দৃশ্যের দেখা মিলতে পারে বিরোধী দলেও। ২০১৩ ও ২০১৬ সালের দলীয় নির্বাচনে বিল শর্টেন জয়ী হন। তবে আসন্ন উপনির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দলের হয়ে অ্যালবানিজের লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জরিপের ফল বলছে, ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর থেকে জনসমর্থন অর্জনে শর্টেন বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, অ্যালবানিজকে প্রায়ই জনগণের পছন্দের ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

দলের ভেতরের রাজনীতিবিদেরা বলছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে নেবে না লেবার পার্টি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত জয়ের পক্ষে খুব বেশি কাজ দেয় না।

লেবার পার্টির দলীয় কোন্দলের কথা দলটির মনোবল ভাঙতে সরকারি দল প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে।

লেবার পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ও তাঁর পরের প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে রশি-টানাটানি হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে মাশুল দিচ্ছে লেবার পার্টি। এবার আর সে পথে দলটি হাঁটবে না বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদেরা।

বিভিন্ন দলের প্রতি ভোটারদের সমর্থন নিয়ে একের পর এক জরিপ হচ্ছে। গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে সেসব জরিপ প্রকাশ করছে।

ফায়ারফ্যাক্স পুলের জরিপে সরকারি দলের জনপ্রিয়তা কম বলে জানা গেছে।

এপ্রিল-মে-জুন নিউজপুলের গড়পড়তার পরিসংখ্যান বলছে, লেবার-লিবারেল দলের সমর্থন যথাক্রমে নিউ সাউথ ওয়েলসে ৫৩-৪৭, ভিক্টোরিয়ায় ৫৬-৪৪ এবং কুইন্সল্যান্ডে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দান টেরিটোরি রাজ্যে ৫২-৪৮।

অভিবাসনের দেশখ্যাত অস্ট্রেলিয়ায় লিবারেল পার্টির এবারের অবস্থান দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ—দলটি অভিবাসনবান্ধব নয়। বিগত কয়েক বছরে অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন, উন্নয়নকাজে বিলম্ব, নাগরিকত্ব গ্রহণের আইন জটিল করার মতো বিষয়ের জন্য দেশটির বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে সমর্থন হারাচ্ছে লিবারেল দল।

উপনির্বাচনে সরকারি দল বা বিরোধী দলের জয়-পরাজয় দেশটির জাতীয় জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোন দল সরকার গঠন করবে, তারও একটা আভাস পাওয়া যাবে এই উপনির্বাচনে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল আছেন প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *