রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯, ৬:৪২:১৩ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেলেন খাদিজা ইয়াসমিন

মির্জাপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেলেন খাদিজা ইয়াসমিন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
নানা নাটকীয়তার পর অবশেষ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেলেন বর্তমান উপাধাক্ষ ও ইংরেজী বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মিসেস খাদিজা ইয়াসমিন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ফারহানা আক্তারের নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে কলেজ সুত্র জানিয়েছেন। তিনি দায়িত্বভার গ্রহন করার পর কলেজের জটিলতা অনেকটাই কেটে যাচ্ছে বলে শিক্ষক কর্মচারীগন জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্র জানায়, গত ১১ মার্চ কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর অবসরে চলে যান। তিনি অবসরে চলে যাওয়ার পর সরকারী বিধিমোতাবেক ও পদাধিকার বলে বর্তমান উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্ত সরকারী বিধি অমান্য করে উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিনের পরিবর্তে কলেজ কর্তৃপক্ষ একই কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা রহমান হককে গত ১২ মার্চ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ নিয়ে মির্জাপুর সরকারী কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে অসোন্তোষ ও আর্থিক লেনদেনে জটিলতা দেখা দেয়। বিধি সম্মত উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য গত ১১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয় চিঠিতে উল্লেখ করেন, জনবল কাঠামো ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ১১.৬ অনুযায়ী-৬০ বছর পুর্ন হওয়ার পর কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহকারী প্রধান/শিক্ষক-কর্মচারী কোন অবস্থায় পুনঃনিয়োগ বা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। মির্জাপুর কলেজটি গত ৮/৮/২০১৮ইং তারিখে জাতীয় করন হওয়ায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগেরও কোন সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৯/৭/২০১২ তারিখ নং শিম/শা.১১/৩-৯/২০১১/৪৮৪ স্মারকপত্র মোতাবেক অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে উপাধাক্ষ না থাকলে পরবর্তী জেষ্ঠ্য শিক্ষক অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। যেহেতু বর্তমানে কলেজ এমপিওভুক্ত উপাধাক্ষ কর্মরত আছেন, সেহেতু উপাধাক্ষই পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৯/৭/২০১২ তারিখের নং-শিম/শা-১১/৩-৯/২০১১/৪৮৪ স্মারকপত্র মোতাবেক টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলাধীন মির্জাপুর সরকারী কলেজে বর্তমান উপাধাক্ষ অধক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। খাদিজা ইয়াসমিনের আবেদনের পেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সহকারী পরিচালক ফারহানা আক্তার গত ২১ মার্চ খাদিজা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্ত নানা জটিলতার কারনে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে দেননি। তিনি ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে অবহিত করেন।
এদিকে গতকাল বুধবার (২৭ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম তিন কার্য দিবসের মধ্যে উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিনকে মির্জাপুর সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদানের জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন। উপ সচিবের নির্দেশনায় আজ বৃহস্পতিবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা রহমান হককে অব্যহতি দিয়ে উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে উপাধাক্ষ খাদিজা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার প্রতি অন্যায় আচরন করেছিলেন। অধ্যক্ষ পদ পাওয়ার জন্য আমি আবেদন করেছিলাম। বিধি সম্মত ভাবেই আমি এখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিধি সম্মত ভাবে খাদিজা ইয়াসমিনকে মির্জাপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। একন থেকে কলেজে কোন সমস্যা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *