রবিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৮, ৩:২১:২৩ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুর বেঁদে পল্লীতে ঝুঁপরি ঘরে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত চলছে টিভি ফ্রিজ ফ্যান

মির্জাপুর বেঁদে পল্লীতে ঝুঁপরি ঘরে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত চলছে টিভি ফ্রিজ ফ্যান

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে বেঁদে পল্লীতে।বেঁদে পল্লীর পলিথিনে মোড়ানো ঝুঁপরি ঘরে এখন সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে ঝুঁপরি ঘরে চলছে টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান।বেঁদে পল্লীর এই আধুনিকতা এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ভিড় করছে।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা বেঁদে পল্লীতে পলিথিনে মোড়ানো ঝুঁপরি ঘরে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।আজ রবিবার উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় বেঁদেরা দল বেধে বিভিন্ন নদ নদীতে নৌকায় বসবাস করতো।বেঁদে-বেদেনীরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রামান্তর ছুটে বেড়াতো বিভিন্ন পশরা নিয়ে।ছেলেরা কাঁদে ঝুলিতে বাঁশি, বানর ও বিভিন্ন তাবিজ-কবজ নিয়ে বিক্রি করতো।আর মেয়েরা সিঙ্গায় ফুক, বিভিন্ন রোগের ঝাঁড়-ফোক ও কাচের চুড়িসহ বিভিন্ন থালা-বাসন বিক্রি করে সন্ধ্যা হলে নদ-নদীতে নৌকায় ফিরে যেত।নৌকায় ফিরে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন বাঁশ ও লাকড়ি দিয়ে রান্না বান্না করে খাবার খেত।কিন্ত কালের বিবর্তনে অনেক কিছুই তাদের পরিবর্তন হয়েছে।পাল্টে গেছে জীবন চিত্র।
কয়েকজন বেঁদে জানিয়েছেন, নিজ নিজ বাড়ি ঘর না থাকায় তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারেন না।এছাড়া স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতিও ঠিকমত গ্রহন করতে পারেন না।ফলে তাদের সন্তানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।তবে আধুনিকতার জন্য তারা আজ অনেক কিছুই করতে ও শিখতে পেরেছে।গরম থেকে রক্ষার জন্য বিদ্যুতের কিবল্প হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে তাদের পলিথিনে মোড়ানো ঝুঁপরি ঘরে আলো জ¦লছে, ফ্যান ঘুরছে, টিভি দেখতে পারছে।এছাড়া অনেকে জালানীর বিকল্প হিসেবে লাকড়ির পরিবর্তে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে।মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই,লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেঁদে সম্প্রসায়দের লোকজন পলিথিনে মোড়ানো ঝুঁপরি ঘরে বসবাস করছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, বেঁদেদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকার ও এলাকার সমাজ সেবী ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *