শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ২:২৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে এসেই বাদীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট

মির্জাপুরে হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে এসেই বাদীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,
প্রহন মুলক বিচারের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাহীন মোল্লা(৩৪) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে এসেই বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।আসামীরা জামিনে এসেই মামলার বাদী রেহানা বেগম ও মামলার স্বাক্ষীদের আবার হুমকি দিয়েছে। মামলা তুলে নেওয়া না হলে স্বামীর মত তাকে ও স্বাক্ষীদেরও হত্যা করা হবে বলে মামলার বাদী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেছে।ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদী ও স্বাক্ষীর পরিবার।গত ৭ সেম্টেম্বর রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।আজ বুধবার মাঝালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে থমথমে অবস্থা রিবাজ করছে।স্বামীকে হত্যার পর দুই কন্যা সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পরেছে রেহানা বেগম।
মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়,নিহত শাহীনের পিতার নাম সৈয়দ আলী মোল্লা।গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝালিয়া গ্রামে। পেশায় ছিল সে ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী।পারিবারিক বিরোধ ও পুর্ব শক্রতাকে কেন্দ্র করে তার প্রতিবেশীরা এবং মাঝালিয়া এলাকার কতিপয় বখাটে শাহীনের নামে এক শিশুকে যৌন হয়রানীর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি থেকে জোর পুর্বক ধরে নিয়ে মাঝালিয়া গ্রামের স্কুল মাঠের পাশে ক্লাবের এনে লাঠি দিয়ে বেদম পিটাতে তাকে।শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম অভিযোগ করেন, প্রহসন মুলক বিচারের নামে মাতাব্বর মোহাম্মদ ্আলী ও তার সহযোগিদের নির্দেশে শাহীনের উপর অমানুষিক নির্যাতন করে।নির্যাতনে আংশ নেয় মাঝালিয়া গ্রামের বাগু মিয়ার ছেলে সুমন, লেবু খানের ছেলে ইজাজ, নওজেস আলীর ছেলে অয়ন, বজলু মিয়ার ছেলে শামীম, আমজাদ আলীর ছেলে রানা, রিপন, নুরু মিয়ার ছেলে মামুন, মান্নান মিয়ার ছেলে পারভেজসহ ১৫-১৬ জন যুবক।তাদের অমানুষিক নির্যাতনে শাহীন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেও রেহায় পায়নি।তার স্ত্রী রেহানা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ঐ বখাটেরা মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করে।স্থানীয় কতিপয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে।পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহীনকে মু-মু-র্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগন তার শারীরিক অবনস্থার অবনতি দেখে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার করেন।কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকগন তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এদিকে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে রেহানা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন মোহাম্মদ আলী, লেবু, নওজেস, বজলুর রশিদ, দুলাল, অনয়ন ও এজাজসহ ২৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।মামলার পর আসামী সম্প্রতি জামিনে এসেছে।জামিনে এসে গত রবিবার রাতে বাদী রেহানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।মামলা তুলে নেওয়া না হলে তাকে ও মামলার স্বাক্ষীদের একই ভাবে মেরে ফেলা বহবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।শাহীনের অসহায় স্ত্রী রেহেনা বেগম ও এলাকাবাসি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার পুলিশ হারিছুল হক বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে এটা ছিল শাহীনের উপর মিথ্যা, সাজানো ও বানানো একটি গুজব।শাহীনের উপর মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রহসন মুলক বিচারের নামে কিছু বখাটে ও মাতাব্বর তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছো।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, নিহত শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাদীকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।
এ ব্যাপারে বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *