শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ১:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে স্যানাল বাড়িতে মন্ডপে নীল রংয়ের মুর্তি দেখতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মির্জাপুরে স্যানাল বাড়িতে মন্ডপে নীল রংয়ের মুর্তি দেখতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুষ্টকামুরী আন্ধরা গ্রামের স্যানাল বাড়িতে পুজা মন্ডপে নীল রংয়ের মুর্তিগুলো দেখাতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় বেড়েই চলেছে।২০০শ তম পুজা মন্ডপে তৈরী দৃষ্টি নন্দন নীল রংয়ের মুর্তি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ভক্তরা।আজ বৃহস্পতিবার মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে নানা সাজে সজ্জিত করা হয়েছে মন্ডপের আশপাশ।স্যানাল বাড়ির মন্ডপের পুজারি তোষার স্যানাল জানান, এ বছর তাদের ২০০শ তম শারদীয়া দুগা পুজা উৎসব।তাদের পুর্ব পুরুষগনও একই ভাবে নীল রংয়ের কারুকাজ করে মন্ডপে মুর্তি বানিয়ে বিসর্জন দিতেন।তাদের পথ অনুসরন করে এ প্রজন্মে তারাও একই ভাবে পুজা করে আসছেন।টাঙ্গাইলের অন্য কোথাও এ রকম দৃষ্টি নন্দন মন্ডপ তৈরী হয়নি।
এদিকে এ বছর টাঙ্গাইলের ১২ টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুরে সর্বাধিক শারদীয়া দুর্গা পুঁজার ২৩৭ মন্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপ নানা সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার রায় বাহাদুরের নান্দনীয় পুজা মন্ডপ দেখতে আসছেন মন্ত্রী-এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কুটনৈতিকসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।কুমুদিনী কমপ্লেক্্র ও দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান জানিয়েছেন।
জানা গেছে,এ বছর মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ২৩৭টি মন্ডপে পুঁজা উদযাপন হচ্ছে বলে আজ শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানিয়েছেন।শারদীয়া দুর্গা পুঁজা উপলক্ষে মির্জাপুরে দেখা দিয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং বিভিন্ন মার্কেটগুলোও বেশ জমে উঠেছে।মন্ডপে মন্ডপে কারীগররা এখন প্রতিমা তৈরী এবং প্রতিমায় রং তুলির আচর দিতে ব্যস্ত সময় পারছেন বলে পুঁজারিরা জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা পুঁজা উদযাপন কমিটি ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, এ বছর মির্জাপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ২৩৭টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গা পুঁজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ইতিমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।পৌরসভায়-৪২ টি, আজগানা ইউনিয়নে-৩টি, বাঁশতৈল ইউনিয়নে-৪টি, তরফপুর ইউনিয়নে-৬টি, লতিফপুর ইউনিয়নে-১৬টি, গোড়াই ইউনিয়নে-২০টি, ভাওড়া ইউনিয়নে-৫টি, ওয়ার্শি ইউনিয়নে-১৮টি , আনাইতারা ইউনিয়নে-৭টি, মহেড়া ইউনিয়নে-১১টি, জামুর্কি ইউনিয়নে-৩২টি, বানাইল ইউনিয়নে-১৮টি, ভাদগ্রাম ইউনিয়নে-৩০টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে-১২টি এবং ফতেপুর ইউনিয়নে-১৩টিসহ মোট ২৩৭টি মন্ডপে পুঁজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়সহ কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন, এ বছর কুমুদিনী কমপ্লেক্্র ও মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামের রনদা প্রসাদ সাহার পুজা মন্ডপ দেখতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিনার, নেদারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, ভুটানসহ ১০-১২ টি দেশের রাষ্ট্রদুতসহ কুটিৈনতকগন আসছেন।
উপজেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক ও সাধারন সম্পাদক বাবু প্রমথেম গোষ্মামী বলেন, মির্জাপুর একটি শান্তি প্রিয় এলাকা।স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদয়ি স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু এবং পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন এলাকার প্রতিটি মন্ডপে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, প্রতিটি পুঁজা মন্ডপে সুষ্ঠু ভাবে পুঁজা উদযাপনের জন্য সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।প্রতিটি এলাকায় সুষ্ঠু ও শান্তি প্রিয় ভাবে পুঁজা উদযাপনের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পুঁজা উদযাপন পরিষদ, স্থানীয় জন প্রতিনিধি, সুধীজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্ময়ে সভা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *