রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯, ৬:০৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ১৬ বছর ধরে ঝুলে আছে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানীর গ্রীন সিটি প্রকল্পের নির্মান কাজ

মির্জাপুরে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ১৬ বছর ধরে ঝুলে আছে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানীর গ্রীন সিটি প্রকল্পের নির্মান কাজ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
নায্য মুলে জমি ক্রয়ের পরও একটি অসাধু চক্রের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় গত ১৬ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানীর মির্জাপুর গ্রীন সিটি নির্মান প্রকল্পের কাজ।গ্রীণ সিটি নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় কোম্পানীর কয়েক শত কোটি টাকা দেনার ভারে জর্জরিত হয়ে পরেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের রাজাবাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার মির্জাপুর গ্রীণ সিটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কম্ফিট কম্পোজিট ও টেক্্রটাইল মিলস এবং গার্মেন্টস লিমিটেড গ্রুপের অংগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং গ্রুপ গোড়াই রাজাবাড়ি এলাকায় ২০০১ ও ২০০২ সালে কিছু জমি ক্রয় করেন।পরবর্তীতে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় মির্জাপুর গ্রীন সিটি প্রকল্প।প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ নিয়ে মির্জাপুর গ্রীন সিটির মালিক পক্ষ ২০০২ সালে রাজাবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি দলিলের মাধ্যমে জমির মুল মালিকদের কাছ থেকে নায্য মুল্য দিয়ে আরও প্রায় ২২-২৫ একর জমি ক্রয় করেন।জমি ক্রয় করার পর মালিক পক্ষ জমির চারপাশে বেড়া নির্মান এবং জমির খাজনা, খারিজসহ সরকারী কোষাগারে যাবতীয় কর দিয়ে আসছেন বলে জানান।মির্জাপুর গ্রীন সিটির চেয়ারম্যান মো. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী জানান, রাজাবাড়ি মৌজায় ১৪৮৮, ১৪৮৯ এবং ১৫৯৯ নং দাগসহ কয়েকটি দাগের মধ্যে জমির মুল মালিক আদু সেকের উত্তরাধিকারী নইমুদ্দিন, কছিমুদ্দিন, বছির উদ্দিন ও নছিমুদ্দিন গংদের নিকট থেকে নায্য মুল্য দিয়ে জমি ক্রয় করা হয়েছে।জমি ক্রয়ের পর তারা জমির চারপাশে বেড়া নির্মান এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করে মির্জাপুর গ্রীন সিটির নির্মান কাজও শুরু করেন।
এদিকে যে জমি বিক্রি হয়েছে এবং তারা ক্রয় করেছেন এই জমির উপর নিজেদের জমি রয়েছে দাবী করে রাজাবাড়ি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম(৪৫) ও তার কতিপয় সহযোগি মিলে কোম্পানীর মালিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে নানা ভাবে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেন রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী।চক্রটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা করায় মির্জাপুর গ্রীন সিটির স্থাপনা নির্মানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।গ্রীন সিটির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানী কয়েকশত কোটির টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।সম্প্রতি এই চক্রটি মিথ্যা ও সাজানো তথ্য পরিবেশন করে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে কোম্পানীর বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মো. নজরুল ইসলাম গংদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আমরা জমি বিক্রি করিনি এবং ১৪৮৮,১৪৮৯ ১৫৯৯ দাগে আমাদের জমি রয়েছে বলে দাবী করেন।এই জমি দাবী করে আমরা মামলা করেছি।অপর দিকে নজরুলের চাচাতো ভাই মো. আবুল কাশেম বলেন, নজরুলসহ আমরা পরিবারের সকল সদস্য একমত হয়েই কোম্পানীর কাছে জমি বিক্রি করেছি।এই জমির উপর আমাদের কোন অংশিদার নেই। কোম্পানীর নিকট মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।ব্যবসায়ী মো. আশরাফ খান বলেন, কোম্পানী জমির মুল মালিকদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন।নজরুল গংরা মালিকসহ আমাদের নামেও সাজানো ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।তদন্ত করে তাদের বিচারের দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গ্রীন সিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) মো. ফিরোজ আলম ও চেয়ারম্যান মো. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, জমির মুল মালিকদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করা হয়েছে।তাদের কোন হুমকি ও ভয়ভিতি দেখানোও হচ্ছে না।নজরুলসহ যারা জমি দাবী করে কোম্পানীর নামে (আমাদের নামে)মামলা করেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।তাদের মামলার কারনে কোম্পানী শতশত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পরেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মির্জাপুর গ্রীন সিটি নামে প্রকল্প রাজাবাড়ি এলাকায় জমির মুল মালিকদের কাছ থেকে নায্য মুল্য দিয়ে জমি ক্রয় করেছেন।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় অবগত রয়েছেন।যারা এখন জমি দাবী করে মামলা করেছেন তা মিথ্যা, সাজানো ও বানোয়াট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *