রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯, ৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে মনিরুলের মৃত্যুটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা পরিবারের দাবী?

মির্জাপুরে মনিরুলের মৃত্যুটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা পরিবারের দাবী?

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মনিরুল ইসলাম(৩০) এর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।এটি কি আতœহত্যা না পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।মনিরুলের পরিবারের দাবী তার স্ত্রী আইভি আক্তার ও তার শ^শুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যার পর আতœহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।ঘটনার তিন দিন পরও পুলিশ হত্যার রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই রোডের আসিফ ক্লিনিক সংলগ্ন মনিরুল ইসলামের শ^শুর মো. কয়েত আলী(৫৬) বাসায় গত মঙ্গলবার সকাল সারে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আজ বৃহস্পতিবার মনিরুলের বড় ভাই ইব্রাহিম খলিল এবং মনিরুলের স্ত্রী আইভির সঙ্গে কথা বলে মনিরুলের মৃত্যু নিয়ে উভয়ের মধ্যে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মনিরুলের পিতার নামে মো. আনোয়ার গাজী।গ্রামের বাড়ি ষশোর জেরার মনিরুমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে।অপর দিকে মনিরুলের স্ত্রীর নাম আইভি আক্তার, পিতার নাম মো. কয়েত আলী।গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বাংগলা চৌহাট গ্রামে। ২০০৭ সালে মনিরুল ও আইভি আক্তার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন।দীর্ঘ দিন একই বিভাগে পড়াশোনার এক পর্যাযে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।পরিবারের কাছে প্রেমের সম্পর্ক গোপন রেখে ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা বিয়ে করেন।মনিরুলের পরিবাবার এক পর্যায়ে বিয়ে মেনে নিলেও আইভির পরিবার প্রথমে তা মেনে নেয়নি।২০১২ সালে তারা রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকুরীর সন্ধানে ছোটে বেড়াতে থাকেন। পরে আত্বীয় স্বজনদের অনুরোধে অবশেষে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উভয়ের পরিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে মেনে নেন।তাদের সংসারে মুসা ইসলাম(৫ বছর) এক পুত্র ও আরশি(৫ মাস) নামে এক কন্যা রয়েছে।
৩২ তম বিসিএসে সাধারন শিক্ষা ক্যাডারে আইভির চাকুরী হয়।যোগদান করেন টাঙ্গাইলের সরকারী সাদত বিশ^দ্যিালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে।মনিরুলও কয়েকবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্ত সফল হতে পারেনি।তার ইচ্ছে ছিল স্ত্রীর চেয়ে আরও বড় কিছু হওয়ার।একের পর এক চেষ্টা করেছেন ভাল একটি চাকুরির জন্য। তারপরও তিনি হাল ছাড়েনি বলে পরিবারের লোকজন জানায়। এদিকে স্ত্রী শিক্ষকতা করলেও মনিরুল ভাল মানের কোন চাকুরী না পাওয়ায় স্ত্রী ও শ^শুর বাড়ির লোকজন তাকে নানা ভাবে হেয় করে আসছিল বলে তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।মনিরুলের বড় ভাই ইব্রাহিম খলিল অভিযোগ করেন, স্ত্রী আইভি, শ^শুর-শ^াশুরী এবং আইভির ভাই সাহেদ ও হাসান তাকে মানষিক ভাবে চাপ ও নির্যাতন করে আসছিল।ঘটনার দিন সকালে মনিরুল তার মাকে ফোন করে বলেছিলেন মা তুমি অপেক্ষা করো-আমি মুসাকে নিয়ে (পুত্রকে) বাড়ি আসছি।এরপর আর কোন কথা হয়নি।সকালে স্ত্রী, শ^শুর ও শ^াশুরীসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মনিরুলের কথাকাটি হয়।তারপরই মনিরুলের লাশ কক্ষের একটি ভিতর পাওয়া যায়।আইভির পরিবার প্রথমে ফোন করে ইব্রাহিমকে জানায়, আপনারা তারাতারি চলে আসেন, মনিরুল দুর্ঘটনায় মারা গেছে। কিভাবে মারা গেছে তারা তা জানাননি বলে অভিযোগ করেন।পরে জানতে পারেন বাসার একটি কক্ষে তার ঝুলন্ত লাশ রয়েছে।মনিরুলের মৃত্যু নিয়ে তাদের নানা সন্দেহ হয়।মনিরুলের ভাই ইব্রাহিম ও পতার পরিবার অভিযোগ করেন, মনিরুল একজন সৎ দক্ষ ও মেধাবী ছাত্র ছিল।তার কোন অভিমান ছিল না।মনিরুলকে পরিকল্পিত ভাবে মারা হয়েছে।তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মনিরুলের স্ত্রী আইভি আক্তার ও শ^শুর মো. কয়েত আলীর বাসায় বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বাসায় তালা ঝুঁলতে দেখা গেছে।মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আইভি আক্তার ও তার বাবা মো. কয়েত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মনিরুল কেন ও কি ভাবে আতœহত্যা করেছে তারা কেউ সঠিক ভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তাদের ধারনা অভিমান করেই মনিরুল নিজেই ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ ময়না তদন্ত করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *