বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮, ১২:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে বিআরডিবির নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

মির্জাপুরে বিআরডিবির নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিআরডিবি অফিসের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে।নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে এবং ক্ষমতার দ্ধন্ধে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।গত কয়েক দিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় উপজেলা পরিষদ চত্তর ও বিআরডিবি অফিসের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।আজ শুক্রবারও আওয়ামীলীগ সমর্থিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এলাকা পরিচালক পদে প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন।অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা পরিষদ চত্তরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় অফিস সুত্র জানায়, আগামী ১২ মে উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির(বিআরডির)নির্বাচন।চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জহির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল ও বিএনপি নেতা হাজী সোহরাব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আবিদ হোসেন শান্ত মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৬টি ব্লকে এলাকা পরিচালক পদে ১ নং ব্লকে মো. বাচ্চু মিয়া, ২ নং ব্লকে আব্দুর রহিম, ৩ নং ব্লকে জহিরুল হক, ৪ নং ব্লকে আলী হোসেন ও আমছের খান, ৫ নং ব্লকে ফরিদা বেগম এবং ৬ নং ব্লকে একজন প্রার্থী মনোয়নপত্র ক্রয় করেছিলন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে উপজেলা পরিষদ চত্তরে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ করা হয়। আওয়ামীলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির ও যুবলীগ নেতা আবিদ হোসেন শান্তর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজাহরুল ইসলাম শিপলু, পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আজাহারুল ইসলাম সিকদার, জেলা পরিষদের সদস্য সাইদুর রহমান বাবুল, পৌর আওয়ামীরীগের সভাপতি আছুর উদ্দিন আছু,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার নাইম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজু আহমেদসহ উপজেলা আওয়ামীলীগও সহযোগি সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী।অপর দিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, তার আইনজীবি বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ, উপজেলা স্বেচ্ছাবকলীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং উপজেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।গতকালের মনোয়নপত্র জমাদানের পর আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ এখন মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলের পক্ষে মনোয়নপত্র নিতে এলে তার সমর্থকদের উপর কয়েক দফা হামলার চেষ্টা করা হয় ।খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি যাতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে না পারি সে জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির ও তার কর্মী সমর্থক এবং সন্ত্রাসী বাহিনী আমার মনোয়নপত্র ক্রয়ে ও জমাদানের সময় বাঁধা দিয়ে হামলা করেছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জহির বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল বিতর্কিত একজন ব্যক্তি। তিনি বিআরডিবির ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে চাকুরী দেওয়ার নাম করে লোকজনের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা, বিআরডিবির বিভিন্ন সমিতির টাকা, ভুমি অফিসে খাজনা খারিজের নামে টাকা আতœসাত, মির্জাপুর বাজারের বিআরডিবির অফিসের নতুন ভবন ও মার্কেট নির্মানের কথা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।ক্ষতিগ্রস্থরা বিআরডিবি অফিসে এসে বিপ্লবের কাছে টাকা ফেরত চাইতে এলে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদের উপর হামলা চালায় এবং অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল আওয়ামীলীগের কোন নেতা নয়।বিআরডিবির নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীরীগের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির।তার পক্ষেই উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এটাই দলীয় সিদ্ধান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *