মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮, ১:৫১:০১ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে বিআরডিবির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোয়নপত্র নিয়ে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর প্রতিপক্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় হামলার চেষ্টা 

মির্জাপুরে বিআরডিবির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোয়নপত্র নিয়ে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর প্রতিপক্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় হামলার চেষ্টা 

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
বিআরডিবির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোয়নপত্র নিতে এলে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর দফায় দফায় হামলার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও একদল সন্ত্রাসী বাহিনী।তিনজন আইনজীবি নিয়ে ঐ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়নপত্র নিতে এলে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে রির্টার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ঠুকতে পারেনন্।িঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।আজ সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা পরিষদ চত্তরের কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি.(বিআরডিবির) অফিসের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের এ ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় অফিস(বিআরডিবির) সুত্র জানায়,আগামী ১২ মে মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি(বিআরডির) চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৬ টি ব্লকের এলাকা পরিচালক পদে নির্বাচন।বিধিমোতাবেক আজ সোমবার এবং আগামীকাল মঙ্গলবার প্রার্থীদের মনোয়নপত্র গ্রহনের কথা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে।আজ সোমবার সকালে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার বিপল্ব মাহমুদ উজ্জলের পক্ষে তার কর্মী-সমর্থকরা তিনজন আইনজীবি নিয়ে বিআরডিবি অফিসে রির্টানিং অফিসারের কাছে মনোয়নপত্র নিতে এলে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জহিরের কর্মী সমর্থক ও একদল সন্ত্রাসী বাহিনী হাতে লাঠি-সোঠা ও দেশীয় অস্্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় এবং মনোয়নপত্র ক্রয়ে অফিসে ঢুকতে বাঁধা দেয়।ভয়ে তারা অফিসে না ঢুকতে পেরে মির্জাপুর থানায় আশ্রয় নেন।এ সময় উপজেলা পরিষদ চত্তর ও অফিস পাড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও আতংকের সৃষ্টি হয়ে লোকজন দিক-বিধিক ছোটাছুটি শুরু করে।দুপুরের দিকে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিআরডিবির অফিস ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করেন।নানা নাটকীয়তার পর দুপুরের পর চেয়ারম্যান পদে খন্দকার বিপ্লব মাহমুদের পক্ষে তার আইনজীবি এ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ মনোয়নপত্র ক্রয় করেন।মনোয়নপত্র ক্রয় করে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় একদল অস্্রধারী অটো রিবসা ঘেরাও করে চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলের পিতা খন্দকার বেল্লাল হোসেনকে টেনে হিচরে মারপিটের চেষ্টা করে ও এ্যাডভোকেট আব্দুর রউফকে লাঞ্চিত করে।সন্ত্রাসীরা এ সময় কয়েকজন সংবাদ কর্মীকেও অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ এবং লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে।পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করেন, আমি যাতে চেয়ারম্যান পদে মনোয়নপত্র ক্রয় করতে না পারি এবং নির্বাচন না করি সে জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির ও তার কর্মী সমর্থক এবং সন্ত্রাসী বাহিনী আমার মনোয়নপত্র ক্রয়ে বাঁধা দিয়ে হামলা করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদকও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জহির বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পক্ষের লোকজন নয়,তার লোকজনই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে তার কর্মী সর্মী সমর্থকদের নানা ভাবে দোষারোপ সৃষ্টি করছে।
বিআরডিবির কর্মকর্তা মি. গোপাল চন্দ্র সরকার ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সবাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে গ্রহনের লক্ষে তারা সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।আজ সোমবার পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে মো. জহিরুল জহির, খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল ও হাজী সোহরাব হোসেন মনোয়নপত্র ক্রয় করেছেন।ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন মো. আবিদ হোসেন শান্ত মনোয়নপত্র ক্রয় করেছেন।পরিচালক পদে ১ নং ব্লকে মো. বাচ্চু মিয়া, ২ নং ব্লকে আব্দুর রহিম, ৩ নং ব্লকে জহিরুল হক, ৪ নং ব্লকে আলী হোসেন ও আমছের খান, ৫ নং ব্লকে ফরিদা বেগম এবং ৬ নং ব্লকে ফারুক হোসেন মনোয়নপত্র ক্রয় করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, বিআরডিবির নির্বাচনে মনোয়নপত্র বিক্রি নিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।তবে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।পরিস্থিতি এখন সম্পুর্ন স্বাভাবিক বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে এর আগে গত সোমবার নির্বাচন নিয়ে উপজেলা আওযামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিরি চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদ(৫৬) উপর হামলা হয়েছে। উপজেলার বিআরডিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল(৪৩) এই হামলা চালায়।উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে বিআরডিবির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল চাকুরী দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা, বিআরডিবির সমিতির টাকা এবং বিআরডিবির অফিসের নতুন ভবন ও মার্কেট নির্মানের কথা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।গতকাল সোমবার ক্ষতিগ্রস্থ্য কয়েকজন চাকুরি প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা বিআরডিবি অফিসে এসে বিপ্লবের কাছে টাকা ফেরত চাইতে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।অফিসের চেয়ারে বসা বিআরডির চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ ঘটনা জানতে খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা চালায় এবং অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে পালিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *