রবিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৮, ৩:২১:১৮ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে বরাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে শিক্ষক॥শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ

মির্জাপুরে বরাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে শিক্ষক॥শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে বেতম পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করেছে কয়েকজন শিক্ষক।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে(পারটাইম)ভাড়া করা শিক্ষকের বেদম প্রহারে ছাত্ররা গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বরখাস্ত, দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও ঘটনার প্রতিবাদে কয়েক গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।ছাত্ররা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা।পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ (বিএনবি)বিদ্যালয়ে এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং অসুস্থ্য ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে আগধল্যা ও শুভুল্যা গ্রামের ছাত্রদের মধ্যে কাথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক(পারটাইম) মো. মারুফ হোসেন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফ ও নবম শ্রেণীর ছাত্র সাহাদতসহ বেশ কয়েকজনকে বেত দিয়ে এলোপাথারি ভাবে বেদম পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তারা গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরে।এই ঘটনা দুই গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত (৭-৮) দিন ধরে বিদ্যালয় ও এর আশাপাশের কয়েক গ্রামের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা।যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে এই আশংকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিবাবক সদস্য মো. শুকুর আলী ও মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন,অদক্ষ প্রধান শিক্ষকের কারনে বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়ম চলে আসছে।প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক এই ঘটনা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ঘটনা অবহিত না পুলিশকে খবর দেয়।পুলিশ খবর পেয়ে আগধল্যা ও শুভুল্যা গ্রামে হানা দিয়ে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের নানা ভাবে হুমকি ও ভয়ভিতি দেখায়।এই ঘটনা আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক ও মারুফ হোসেনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বহিঃস্কারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে আগধল্যা, শুভুল্যা ও উফুল্কীসহ কয়েকটি গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।ফলে বিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।তিনি ও তার সহযোগিদের অনিয়ম দুর্নীতির কারনে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থ্যা এবং একের পর এক অপৃতিকর ঘটনা ঘটছে।তাকে বহিঃস্কার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী যেতে দেবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নং-(০১৭১৪-৯৫৪৭৩১) বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন সিরিফ না করায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মারুফ হোসেন বলেন, ঐ দিনের ঘটনার পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে আমি ছাত্রদের শ^াসন করেছি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখেছি।প্রধান শিক্ষক ঘটনার দ্রুত মিমাংশা করবেন বলে আশ^াস দেওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *