শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ১০:৫৫:১৬ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে নাসির গ্রুপ কারখানার বিষাক্ত ধোয়া ও দুষিত বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকির মুখে

মির্জাপুরে নাসির গ্রুপ কারখানার বিষাক্ত ধোয়া ও দুষিত বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকির মুখে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
কারখানার বিষাক্ত কাল ধোয়া ও বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিত ভাবে তিন ফসলি আবাদী জমির উপর কারখানা গড়ে উঠায় এলাকার চারপাশের ফসলি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।ফলে এলাকার কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে জমিতে আবাদ করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একদিকে জলবন্ধতা, অপর দিকে অপরিকল্পিত ভাবে কারখানার বিষাক্ত ধোয়া ও দুষিত বর্জ্যরে পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার কোদালিয়া, বাইমাইল ও সোহাগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঐ এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু একসেস রোড মহাসড়ক ও গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক রোডের আশপাশে অর্ধশত ছোট বড় মিল কারখানা গড়ে উঠেছে। দেওহাটা এলাকায় বেঙ্গল এফ এন কে গ্রুপ, কদিমধল্যা এলাকায় সাদিয়া টেক্্রটাইলস লি. জামুর্কি ও ডুবাইলে নাসির গ্রুপ, গোড়াইতে কাশেম ড্রাইসেল লি. মাসাফি ব্রেড এন্ড বিস্কুল কারখানা, উত্তরা সাইকেল মাঠ লি. উত্তরা স্পিনিং মিল, নিউটেক্্র গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপ ও সৈয়দপুরে মেঘনা গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু একসেস রোড মহাসড়কের ধেরুয়া, কোদালিয়া ও বাইমাইল এলাকায় নাসির গ্লাসওয়ার এন্ড টিউব ইন্ডষ্ট্রিজ লি. অন্যতম। এই কারখানাটি অপরিকল্পিত ভাবে তিন ফসলি জমির উপর গড়ে উঠায় কয়েকটি গ্রামের জনসাধারন পরেছেন চরম বিপাকে।তিন ফসলি জমির উপর কারখানা গড়ে উঠায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জমি থাকছে বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদী। কারখানার বিষাক্ত ধোয়া ও দুষিত বর্জ্যরে পচা দুর্গন্ধে এলাকায় টিকে থাকা দায় হয়ে পরেছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগে করেছেন। বিষাক্ত বর্জ্যরে দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ এখন হুমকির মুখে।
ভুক্তভোগের মধ্যে কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান(৪৫), আবু কালাম মিয়া(৬৩) ও বাইমাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন(৫৬) অভিযোগ করেন, আবাদী জমি রক্ষার জন্য কারখানার দুষিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ, কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন ও এলাকার পরিবেশ রক্ষার রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।কারখানার দুষিত বর্জ্যে আশপাশের গ্রামের পুকুর, ডোবা-নালা ও নদ-নদীর মাছ মরে যাচ্ছে।সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ও ফলমুলের গাছাপালা মরে যাচ্ছে।উপজেলার কদিমধল্যা, কাটরা, সাটিয়াচড়া, পাকুল্যা-গোড়ান, জামুর্কি, ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, গোড়াই নাজিরপাড়া, গোড়াই হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, ক্যাডেট কলেজসহ ৩০-৩৫ টি গ্রামের আশপাশে ও তিন ফসলি জমির উপর অপরিকল্পিত ভাবে মিলকারখানা গড়ে উঠায় দুষিত বর্জ্যে এলাকাবাসি পরেছেন চরম বিপাকে।এলাকার পরিবেশ ও তিন ফসলি জমি রক্ষাসহ কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকাবাসি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কোদালিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নাসির গ্লাসওয়ার এন্ড টিউব ইন্ডাষ্ট্রিত লি. এর জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) মো. ফজলুল করিম ফজলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের(শোধানাগারের জন্য) জন্য ইটিপি প্লান্ট বসানো হয়েছে।তারপরও যদি দুর্গন্ধ বের হয় তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দাবী করেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।তবে অফিসের সংশ্লিস্ট সুত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এলাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারখানায় দুষিত বর্জ্য বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *