সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ১২:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানায় অগ্নিকান্ডে ৬০০শ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরন

মির্জাপুরে নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানায় অগ্নিকান্ডে ৬০০শ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।আগুন লাগার কারনে বন্ধ হয়ে গেছে কারখানার সকল উৎপাদন।প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬০০শ কোটি টাকা বলে নাসির গ্রুপের কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন।আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্য টাঙ্গাইল, মির্জাপুর ও বাসাইল উপজেলাসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৬টি ইউনিট একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া এলাকায় বিশাল এলাকা নিয়ে নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানা।মির্জাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মো. কফিল উদ্দিন ও নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, দুপুর সোয়া একটার দিকে কারখানার পশ্চিম পাশের বিল্ডিংয়ের কার্নেস থেকে প্রথমে আগুনের সুত্রপাত হয়।প্রচন্ড গরম ও প্রখর রোদ থাকার কারনে মুহর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান কারখানার কয়েকটি ইউনিটের চারপাশে ছড়িয়ে পরে।পুড়তে থাকে মুল্যবান যন্ত্রপাতিসহ যাবতীয় মালামাল।মির্জাপুর থানা পুলিশ,মির্জাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস এবং টাঙ্গাইল জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে খবর দেওয়া হয়।তারা খবর পেয়ে ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে করেন।তাদের সঙ্গে যোগ দেন কারখানার প্রায় সহস্্রাধিক শ্রমিক, কর্মকর্ত ও কর্মচারী।
এদিকে নারি গ্রুপের ভিতরে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় ইলেকট্রনিক্্রস ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা খবর ও টেলিভিশনের ফুটেজ সংগ্রহ করতে নাসির গ্রুপের সামেন গেলে গেটের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী এবং নাসির গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে কারখানার ভিতরে ঢুকতে দেয়নি।ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরা সাংবাদিকদের প্রখর রোদের মধ্যে এক ঘন্টার মত দাড় করিয়ে রাখেন।ফলে ভয়াবহ আগেনর সঠিক তথ্য ও ফুটেজ তারা সংগ্রহ করতে পারেনি।অনেক অনুরোধের পর তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়।স্থানীয় লোকজন ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা আতœসাত করতেই নাসির গ্রুপ পরিকল্পিত ভাবে আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে নাসির গ্রুপের গ্লাস কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মো. ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কারখানার ফার্নেস থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে।ভয়াবহ আগুনে কারখানার অধিকাংশ ইউনিটের যন্ত্রপাতি ও মালামাল পুড়ে গিয়ে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।কারখানার উৎপাদন চালু হতে অন্ততপক্ষে ৬ মাস সময় লাগবে।প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬শ কোটি টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন।সাংবাদিকদের কারখানার ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ভুল বোঝাবুঝিরকারনে এমন ঘটনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টাঙ্গাইল জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য দমকল বাহিনীর ৬টি ইউনিটের কর্মীরা পুরোদমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।রাতে এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রনে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *