মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮, ২:৪০:৫১ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট বোরো ধান নিয়ে কৃষকরা বিপাকে

মির্জাপুরে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট বোরো ধান নিয়ে কৃষকরা বিপাকে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।শ্রমিক সংকট থাকায় ধান কাটতে না পেরে এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পরেছে।দুই থেকে তিনগুন মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পেয়ে কৃষকরা পরেছে দুঃচিন্তায়।আজ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ধান কাটা শ্রমিক সংকটের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এ বছর বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০ হাজার হেক্টর।কিন্ত উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৪০০শ হেক্টর।আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং বীজ, সার ও কীটনাশকের সংকট না হওয়ায় মির্জাপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।শেষ সময়ে এসে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতের বোরো ধান নিয়ে কৃষকরা পরেছে চরম বিপাকে।এক দিকে বৃষ্টি, অপর দিকে ধানা কাটা শ্রমিক সংকট থাকায় কৃষকরা পাকা ধান কাটতে পারছে না বলে কৃষি অফিস সুত্র জানিয়েছে।খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভা, উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, ভাওড়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে এ বছর প্রচুর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, খাবারসহ একজন ধান কাটা শ্রমিকের এক দিনের মজুরি ৬৬০টাকা থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।তারপরও ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় শ্রমিকরা ক্ষেতে ধান কাটতে অনিহা প্রকাশ করছে।কিন্ত ভরা মৌসুমে ক্ষেতে পাকা ধান নিয়ে কৃষকদের দুঃচিন্তার শেষ নেই।প্রতি দিনের ঝড় ও বৃষ্টিতে নিচু এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে।বাজারে এক মন ধানের দাম ৫৭০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা।একজন শ্রমিক এক দিনে যে ধান কাটতে পারে খরচ বাদে কৃষকদের লোকসানই গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে।কয়েকজন কৃষকজন কৃষক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মহাজন, এনজিও এবং ব্যাংক থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে তারা বোরো ধানের আবাদ করেছিল।কিন্ত শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে না পারা এবং বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় তারা এখন চরম বিপাকে পরেছে।উপজেলার শ্রমিকের হাট হিসেবে পরিচিত মির্জাপুর নতুন ও পুরতন স্টেশন, পাকুল্যা, হাঠুভাঙ্গা, দেওহাটা, বাঁশতৈল এবং করটিয়া হাটে গিয়ে ধান কাটা শ্রমিককের তীব্র সংকট দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এক দিকে বৃষ্টি, অপর দিকে ক্ষেতে পাকা ধান ফলে কৃষকরা পরেছে চরম বিপাকে।শ্রমিক সংকট থাকায় ধান কাটা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় এবং প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় অধিক মজুরি দিয়ে হলেও কৃষকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

One comment

  1. ধন্যবাদ মীর আনোয়ার হোসেন টুটুলকে সময় উপযোগী সুন্দর একটি নিউজ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *