রবিবার, মে ২৭, ২০১৮, ১১:৩০:৫০ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে জমে উঠেছে বিআরডিবির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন

মির্জাপুরে জমে উঠেছে বিআরডিবির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
আগামী ১২ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির(বিআরডিবির) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন। চেয়ারম্যান পদে দুই জন প্রার্থী থাকায় জমে উঠেছে নির্বাচন।চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ হওয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।তবে উপজেলা আওয়ামীলীগ জরুরী সভা আহবান করে দলীয় ভাবে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. জহিরুল হক জহিরকে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করায় একটু বেকাদায় পরেছেন আওয়ামীলীগের অপর প্রার্থী এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল।আজ উপজেলা পরিষদ চত্তর ও বিআরডিবির অফিস ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনী উত্তাপের বিভিন্ন বিষয় তুলে আনা হয়েছে।
বিআরডিবির অফিস সুত্র জানায়, আগামী ১২ মে নির্বাচন।ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আবিদ হোসেন শান্ত বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।এখন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে।এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামীলীগের দুটি পক্ষ বিভক্ত হয়ে পরেছে।এক পক্ষ প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন মো. জহিরুল হক জহিরের নির্বাচনী প্রচারনায়।দিনরাত তারা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি।কর্মী সভা, উঠান বৈঠকসহ ব্যাপক প্রচারনা করে যাচ্ছেন।জহিরের পক্ষে কাজ করছেন, বিআরডিবির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি তৌহিদুর রহমান তালুকদার রাজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান সিদ্দিকী, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক মঞ্জুরুল কাদের বাবুল, আওয়ামীলীগ নেতা মেজর(অব.) খন্দকার এ হাফিজ, জেলা পরিষদের সদস্য বাবুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. শামীম আল মামুন, যুগ্ম সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম, আবিদ হোসেন শান্ত, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাইম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) মো. সাদ্দাম হোসেনসহ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী।নির্বাচনে বিজয়ের দিক দিয়ে মো. জহিরুল হক জহিরের পাল্লাই ভারি বলে ভোটারগন জানিয়েছেন।
অপর দিকে খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জলের পক্ষে মাঠে প্রচারনায় কাজ করছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের একাংশের উপজেলা ও জেলা শাখার বেশ কিছু নেতাকর্মী।তারা সরাসরি তারপক্ষে মাঠে না থাকলেও গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।নির্বাচন নিয়ে খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে তার অবস্থা ভাল থাকায় প্রতিপক্ষ মো. জহিরুল ইসলাম জহির ও তার কর্মী সমর্থকরা তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভিতি দেখাচ্ছেন। এখনও জোর করে ভোটার বানাচ্ছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় তার পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।তার পক্ষের কোন ভোটার করতে দেওয়া হচ্ছে না।ফলে তিনি ঠিকমত প্রচারনা করতে পারছেন না। ভোটারগন কেন্দ্রে আসতে পারলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলেও জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মো. জহিরুল হক জহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ তাকে দলীয় ভাবে চেয়ারম্যান পদে মনোয়ন দিয়েছেন।সমবায়ী ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।প্রতিপক্ষকে হুমকি ও ভয়ভিতি দেখানো মিথ্যা ও বানোয়াট এবং পোষ্টার চেড়ার কথা ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবী করেছেন।তিনি আরও বলেন, তার প্রতিপক্ষ দলের কোন প্রার্থী নন।ভোটারগন ব্যলটের মাধ্যমে তাকে প্রত্যাখান করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সমবায় অফিসার আমিনা পারভীন এবং বিআরডিবির কর্মকর্তা(আরডিও) মি. গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, ১২ মে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে গ্রহনের লক্ষে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *