শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮, ৪:১১:০১ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্টস কর্মী শিউলীকে ধর্ষন চেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে

মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্টস কর্মী শিউলীকে ধর্ষন চেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্টস কর্মী শিউলীকে ধর্ষন চেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে।মির্জাপুর থানা পুলিশ সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফটেজ দেখে পুলিশ সন্দেহ ভাজন কয়েকটি বাসের চালকসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপুর্ন তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে।তবে তদন্তে সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত গন মাধ্যম কর্মীদের কাছে পুলিশ তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা জানিয়েছেন।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপনারা একটু অফেক্ষা করুন আপনাদের ভাল খবর দিতে পারবো, আমাদের একটু সহযোগিতা করুন।গত কয়েক দিন ধরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
এর আগে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে শিউলী হত্যা মামলার রেকর্ড হয়েছে।মামলার বাদী হয়েছেন শিউলীর স্বামী মো. শরিফ খান।ডিআইজি মির্জাপুর থানা পরিদর্শনে এসে সংবাদ কর্মীদের কাছে বলেছিলেন যাদের কারনে গামের্ন্টস কর্মী শিউলী হত্যার শিকার হয়েছে সিসি ক্যামেরায় ভিওি ফুটেজ দেখে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজনে পেশাদার তদন্তকারী সংস্থা, র‌্যাব, সিআইডি, হাইওয়ে পুলিশ ও ডিবির সহায়তা নিয়ে ঘাতক বাস, চালক ও তার সহযোগি এবং শিউলীর উপর যারা পাশকি নির্যাতন করেছে তাদের গ্রেফতার করা হবে। কোন অবস্থায় ঘাতকদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি ঘোষনা দিয়েছেন।
আজ বুধবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই চলন্তবাসে শিউলী আক্তার(২৬) নারী গার্মেন্স কর্মীকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ঐ দিন সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় বর্বর এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সুত্র জানায়, শিউলী আক্তারের স্বামীর নাম মো. শরিফ মিয়া।বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামে।তার পিতার নাম মো. আলেফ খান, বাড়ি একই উপজেলার রোয়াইল গ্রামে।তার পারিবারিক সুত্র জানায়, শিউলী গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্সে হেলাপার হিসেবে কাজ করতেন।বৃহস্পতিবার সকালে গার্মেন্সে যাওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরপাড়া নামক স্থানে এলে তাদের ভাড়া করা বহনকারী বাস এসে দাড়ায়।শিউলী ভুলক্রমে তার আইডি কার্ড বাড়িতে রেখে আসায় ঐ বাসে না উঠে বাড়ি চলে যান।বাড়ি গিয়ে আইডি কার্ড নিয়ে এসে রাস্তার পাশে দাড়ায়।এ সময় টাঙ্গাইল থেকে কালিয়াকৈরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামানোর জন্য হাত দিয়ে ইশারা করলে বাসটি থামায়।শিউলী বাসে উঠে দেখতে পান অন্য কোন যাত্রী নেই।এই সুযোগে বাসের হেলপার ও সুপারভাইজারসহ কয়েকজন মিলে শিউলীকে বাসের সিটের মধ্যে ফেলে ধর্ষনের চেষ্টা করে।শিউলী বাসের মধ্যে বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্ত চিৎকার করেও ধর্ষনকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।বাওয়ার কুমারজানি নামক স্থানে বাসটি এলে কয়েকজন মহিলা চিৎকারের শব্দ শুনে রাস্তার পাশে ছুটে এলে ধর্ষনকারীরা শিউলীকে হত্যার পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।পিছন দিক থেকে অপর একটি বাস এসে শিউলীর শরীরের উপর দিয়ে তাকে পৃষ্টে যায়।আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লাশ দেখতে পেয়ে হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে গোড়াই হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।শিউলীর অসহায় পরিবার যাত্রীবাহী বাসটি আটক ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
শিউলীর দুটি পুত্র সন্তান নিয়ে বিপাকে পরেছে অসহায় পরিবার।এদিকে কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্টেসের জেনারেল ম্যানজের মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, শিউলীর অসহায় পরিবারকে তাদের কোম্পানীর পক্ষ থেকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় মা সিএনজি পাম্প ও ধেরুয়া এলাকায় নাসির গ্রুপের ফ্যাক্টরীর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে সন্দেহ ভাজন কয়েকটি বাসের চালকসহ বেশ কয়েকজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপুর্ন তথ্য পাওয়া গেলেও সঠিক সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে এই মুহর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *