বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯, ২০১৮, ৫:১৭:০৭ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়া অনাথ শিশু আইনী জটিলতায় আশ্রয়স্থল এখন কুমুদিনী হাসপাতাল

মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়া অনাথ শিশু আইনী জটিলতায় আশ্রয়স্থল এখন কুমুদিনী হাসপাতাল

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
কুড়িয়ে পাওয়া অনাথ শিশু পুত্র আইনী জটিলতার কারনে তার আশ্রয়স্থল হয়েছে কুমুদিনী হাসপাতাল।পিতা মাতার পরিচয়হীন এই অনাথ শিশুর ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে সংসয় প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাগন।পলিথিন ও বস্তার মধ্যে কুড়িয়ে পাওয়া এক দিনের এই শিশু পুত্রকে লালন পালনের জন্য বিভিন্ন এলাকার ৪০ জন দম্পত্তি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছেন।আইনী জটিলতার কারনে শিশুটিকে এখন কুমুদিনী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।নির্দয় বাবা-মা শিশুটিকে প্রসবের পর ফেলে রেখে গেছে।আজ রবিবার কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে পুলিশ শিশুকে আইসিইউতে নিভির পর্যবেক্ষনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।গত বুধবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের কাওলজানি গ্রামের রায়বাড়ির সামনে জঙ্গলের ভিতরে পলিথিন ও বস্তার মধ্যে শিশুকে পাওয়া গেছে।
আজ রবিবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, মির্জাপুর বিশ^বিদ্যালয় কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবীর নামে দুই ব্যক্তি গত বুধবার সকালে হাটতে গিয়ে জঙ্গলের ভিতরে শিশুর কান্না এবং পাশে একটি কুকুর দেখতে পান।ভাগ্যক্রমে শিশুটিকে কুকুরে খেয়ে ফেলেনি।তারা জঙ্গলে এগিয়ে গিয়ে পলিথিন ও বস্তায় মোড়ানো নবজাতক এক দিনের শিশুকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।ঘটনা জানাজানি হলে শিশুকে এক নজর দেখার জন্য শতশত লোকজন ভিড় জমায়।অনেকেই শিশুকে লালন পালন করার জন্য তাদের কাছে দাবী জানায়।কিন্ত আইনী জটিলতার কারনে তারা বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে জানায়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে মির্জাপুর থানায় নিয়ে আসেন এবং পরে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।গত পাঁচ দিন ধরে শিশুটি কুমুদিনী হাসপাতালের তিন তলায় শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে অমানবিক ঘটনাটি মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পরলে নিঃসন্তান দম্পত্তি, বিভিন্ন উচ্চ ও মধ্যবৃত্ত পরিবারের লোকজন এসে শিশুকে লালন পালনের দায়িত্ব নিতে রাজি হন।আজ রবিবার পর্যন্ত মির্জাপুর থানায় অন্ততপক্ষে ৪০-৪৫ জন দম্পত্তি শিশুকে নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এসেছেন বলে জানা গেছে।কিন্ত আইনী জটিলতার কারনে পুলিশ কাউকে শিশুর লালন পালনের দায়িত্ব দিতে রাজি হচ্ছেন না।মির্জাপুর থানায় শিশুকে নেওয়ার জন্য যারা এসেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সোহরাব হোসেন, আবু হানিফ, ময়নাল হক, জয়নব বেগম ও রুবি বেগম ও শুকুর আলীসহ ৪০ জন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার এএসআই মো. জোনাব আলীর হোসেনে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এক দিনের ঐ শিশুপুত্রকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে আইসিইউতে নিভির পর্যবেক্ষনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এ পর্যন্ত ৪০-৪৫ জন নিঃসন্তান দম্পত্তি শিশুকে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে এসেছেন।কিন্ত আইনী জটিলতার কারনে শিশুটিকে কার কাছে দেওয়া যাচ্ছে না।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, ফুটফুটে এই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। শিশুকে লালন পালনের জন্য অনেকেই এগিয়ে আসায় আইনী জটিলতার কারনে কাউকে দেওয়া যাচ্ছে না।গতকাল শনিবার শিশুকে কার কাছে দেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পুলিশ আবেদন করেছিলেন।ম্যাজিস্ট্রেট শিশুর শারীরিক দিক বিবেচনা করে কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকগন রিপোর্ট জমা দিলে পরবর্তীতে কোর্টে পাঠানো হবে।কোর্ট শিশুকে লালন পালনের জন্য যাকেই দায়িত্ব দেবেন তাকেই শিশুটিকে বুঝিয়ে দিবেন বলে জানেিয়ছেন।
এদিকে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার, নার্সিং স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার রীনা ক্রুস ও মেট্রন সিস্টার দিপালী পেরেরার নির্দেশে হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সগন পরম মমতা দিয়ে শিশু পুত্রকে দেখাশুনা ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *