রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ১০:২৮:৩৭ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ ছাত্রী রুমীর লাশ সিলেটে উদ্ধার গ্রেফতার-৪

মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ ছাত্রী রুমীর লাশ সিলেটে উদ্ধার গ্রেফতার-৪

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী রুমী(১৪) লাশ সিলেট থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।এক প্রতারক রুমিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে ধর্ষনের পর নির্মম ভাবে খুন করেছে বলে পুলিশ ও তার পরিবার অভিযোগ করেছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুলহোতা শফিক(২৬) সহ তিন (গৃহবধু) মহিলাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।আজ শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেট জেলার বিশ^নাথ থানার পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে খুন হওয়া অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রুমীর পিতার মো. আতাউর রহমান। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাদগ্রাম।রুমী মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রুমী ছিল সবার ছোট।রুমীর বড় ভাই শফিকুল ইসলাম আজ শুক্রবার জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রুমীর থালাসেমিয়া রোগ শারীরিক অসুস্থ্যতা(পেটের ব্যথা) নিয়ে মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালের তিন তলায় মেডিসিন বিভাগের ৫২ নম্বর বেডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়।ঐ ওয়ার্ডে রুমীর পাশের ১৩ নম্বর বেডে সোহাগপুর এলাকার শফিক মিয়ার শ^াশুরী মনোয়ারা বেগম(৫০) অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।শ^াশুরীকে দেখা-শোনা করতে এসে শফিকের সঙ্গে স্কুল ছাত্রী রুমীর পরিচয় হয়।পরিচয়ের এক পর্যায়ে রুমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।শফিক বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়।শফিক বিবাহিত হলেও তা রুমির কাছে গোপন রেখে।নানা কৌশলে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতারক শফিক কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে রুমীকে ভুসলিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে সিলেটের উদ্যেশে রওয়ানা হয়।এদিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা ওয়ার্ডের বেডে রুমীকে না পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও রুমির স্বনদের ফোনে হাসপাতালে আসতে বলেন।খবর পেয়ে রুমীর ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেন হাসপাতালে আসেন।পরে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রুমীর ভাই শফিকুল বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অপর দিকে রুমীর পরিবার অভিযোগ করেন, অসুস্থ্য রুমীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক শফিক হাসপাতাল থেকে রুমীকে ভাগিয়ে নিয়ে সিলেটের বিশ^নাথ এলাকায় কয়েক দিন আটকে রেখে ধর্ষন ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে নির্মম ভাবে খুন করে।রুমীকে খুনের পর লাশ গুম করার জন্য বিশ^নাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার পাঠাকইন গ্রামের রাস্তার খালের পাশে লাশ ফেলে দেয় শফিক ও তার সহযোগিরা।স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে পরে বিশ^নাথ থানা পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করে।এ নিয়ে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে রুমীর স্বজনরা রুমির ছবি নিয়ে বিশ^নাথ থানায় গিয়ে রুমির লাশ সনাক্ত করে।
এদিকে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেটের বিশ^নাথ থানার পুলিশ মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের ভিডিও ফোটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল ওহাব উল্লার ছেলে শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, ওহাব উল্লার দুই পুত্রবধু দিপা ও লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করেছেন।
বিশ^নাথ থানার পুলিশ অফিসার (এসআই) মো. মহব্বত হোসেন ও মির্জাপুর থানার পুলিশ অফিসার (এসআই) খোকন চন্দ্র সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ঘাতক শফিক পেশায় একজন প্রতারক চক্রের সদস্য।তার বিরুদ্ধে মাদক ধর্ষনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় চারটি বিয়ে করেছে এবং তার ৭ জন ছেলে মেয়ে রয়েছে।নিজের পরিচয় গোপন করে সে মির্জাপুরে এসে নাছির গ্লাস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী নেয়।রুমীকেও একই ভাবে প্রতারনার ফাতে ফেলে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে।মামলার পর ঘাতক শফিক, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, দুই ভাবি দিপা ও লাভলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের সিলেটের ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নজরুল ইসলামের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।রবিবার আদেশ পাওয়া গেলে রিমান্ডে আনা হবে।
কুমুদিনী হাসপাতালে (এজিএম) অনিমেশ বৌমিক লিটন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগীর আত্বীয়-স্বজন ও পুলিশকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।এখানে হাসপাতালের কোন গাফিলতি নেই।
এ ব্যাপারে লাভলীর ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেনসহ রুমীর সহাপাঠি ও এলাকাবাসি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক শফিক ও তার সহযোগিদের ফাঁসিসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *