বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮, ৯:৫১:১৬ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » মির্জাপুরে এক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক শিক্ষা সচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

মির্জাপুরে এক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক শিক্ষা সচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৭ নং পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম জটিলতাসহ শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।দুই প্রধান শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক(চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওমর আলী বাদী হয়ে শিক্ষা সচিবসহ পাঁচজনকে আসামী করে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩ ঢাকায় মামলা দায়ের করেছেন।মামলার পর দেখা দিয়েছে জটিলতা।এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা।আজ বুধবার পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩ এর মামলার বিবরনে জানা গেছে, মামলার বাদী মোহাম্মদ ওমর আলী গত ২৫/৬/২০১৮ইং তারিখে জেপ্রাশিঅ/টাঙ্গা/প্রা.শি.(চ.দা.)/১৪৫৯ নং স্মারক মুলে প্রধান শিক্ষক(চলতি দায়িত্ব)হিসেবে পদায়ন পেয়ে ৩০/৬/২০১৮ইং তারিখে ১৭ নং পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি যোগদান করেন।মামলার প্রতিপক্ষ আসামী টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আজিজ মিয়া ১০/০৭/২০১৮ইং তারিখে জেপ্রাশিঅ/টাঙ্গা/প্রা. শি.(চ. দা.)/সংশোধনী/১৫৭৬ নং স্মারক মুলে মোহাম্মদ ওমর আলীকে পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে ১০ দিনের মাথায় কোন কারন ছাড়াই তাকে মির্জাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল মস্তমাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করেন।মোহাম্মদ ওমর আলীকে বদলী করে একই তারিখে মো. রুমেজ উদ্দিনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে (চ. দা.)ঐ বিদ্যালয়ে নতুন করে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওমর আলী বাদী হয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩(সিনিয়র জেলা জজ), মো. হুমায়ুন কবীরের ট্রাইব্যুনাল-৩ এর আদালতে মামলা দায়ের করেন।মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব, মহা পরিচালক, টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।মামলার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারক বদলীর আদেশ স্থগিত করেন বলে মামলা বিবরনে জানা গেছে।স্থগিতের পর মোহাম্মদ ওমর আলী পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন।পাশাপাশি মো. রুমেজ উদ্দিন নামের প্রধান শিক্ষকও পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন।এক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক থাকায় প্রশাসনিক কাজে জটিলতা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে বলে, সাধারন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মোহাম্মদ ওমর আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী বিধিমোতাবেক পদায়ন পেয়ে এলাকার দুরত্ব হিসেবে আমাকে পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে যোগদান করেছি।আমাকে নিয়ম বহির্ভুত ভাবে বদলী করায় আমি আইনগত ভাবে আমি মামলা করেছি এবং মামলায় আমার পক্ষে রায় দিয়েছে।
অপর দিকে অপর প্রধান শিক্ষক মো. রুমেজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি জোর করে এখানে আসেনি জেলা শিক্ষা অফিস আমাকে বদলী করে যোগদান করতে বলেছেন।আমি যোগদান করে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।এখন যে জটিলতা দেখা দিয়েছে তার সমাধন করবেন শিক্ষা অফিস।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পাকুল্যা ক্লাস্টারের দায়িত্বে নিয়োজত কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওমর আলীকে বদলী করে মস্তমাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।তার স্থলে মো. রুমেজ উদ্দনকে পাকুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওমর আলী যে মামলা করেছেন, তার কোন বৈধতা নেই।মামলার বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি চলছে।দুই এক দিনের মধ্যে আপিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *