বুধবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৮, ৯:১৮:১৫ অপরাহ্ণ
Home » স্বাস্থ্য » মাছ খেলে বুদ্ধি বাড়ে!

মাছ খেলে বুদ্ধি বাড়ে!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যখনই শিশুদের সঠিক ডায়েটের প্রশ্ন ওঠে, তখন বেশিরভাগ অভিভাবকেরা একটা কমন প্রশ্ন করেন। মাছ, চিকেন নাকি মাটন, কোনটা শিশুদের জন্য উপযুক্ত?

 

আর খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাহানা করে বসে শিশুরা। এটা না ওটা, ওটা না এটা; খাব না, বলে বলে অভিভাবকদের মাথা নষ্ট করার উপক্রম করে শিশুরা। শিশুরা মাংস খেতে পছন্দ করলেও অনেক সময় মাছ খেতে চায় না।

 

নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। ওজন কমায়। ক্যান্সারের ঝুঁকিকমায়। রক্তের এলডিএলের মাত্রা কমায়। চামড়া ও দৃষ্টিশক্তির সুস্থতায় ভূমিকারাখে। হৃৎপিন্ড ও রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেহে প্রদাহ প্রতিহত করে। দুশ্চিন্তা দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া মাছের ডিমে হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড আছে। শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধি বিকাশে মাছের ডিম বেশ উপকারী।

 

কিন্তু সায়েন্টিফিক রিপোর্টের এক জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব শিশু সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ খায় তাদের ঘুম ভালো হয়, আইকিউ টেস্টেও ভালো করে।

 

গবেষকরা বলেন, মাছে শিশুদের বুদ্ধি বিকাশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি এসিড ওমেগা থ্রি এস থাকে। স্যামন, সার্ডিন, টুনা জাতীয় মাছে এই ধরনের ফ্যাটি এসিড থাকে। এ কারণে যেসব শিশু নিয়মিত মাছ খায় তাদের বুদ্ধির বিকাশ ভালো হয়, ঘুমও ভালো হয়।

 

পেনসিলভেনিয়ার একটি গবেষণা দল চীনের ৫০০ শিশুর ওপর এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের বয়স ছিল ৯ থেকে এগারো বছর। তাদের প্রত্যেককে প্রশ্ন করা হয়েছিল তারা মাছ খায় কীনা, খেলেও কতদিন পর পর খায়। এরপর তাদের আইকিউ টেস্ট নেওয়া হয়।

 

ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিশু নিয়মিত মাছ খায় (সপ্তাহে অন্তত একবার) তারা আইকিউ টেস্টে অন্যদের থেকে গড়ে ৪.৮ পয়েন্ট বেশি পেয়েছে। তবে তারা ঠিক কী ধরনের মাছ খায় সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। পাশাপাশি ঐসব শিশুর বাবা-মায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—তাদের সন্তানদের ঘুম কেমন হয়? তাদের উত্তর থেকে গবেষকরা দেখতে পান, যেসব শিশু নিয়মিত মাছ খায় তাদের ঘুমও ভালো হয়।

 

তবে ব্যস্ত জীবনযাপনের জন্য বাবা-মা হয়তো শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো খাওয়াতে পারেন না। এতে শিশু ঝুঁকে পড়ে ফাস্টফুডের দিকে। আর ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার শিশুর শরীরে বাজে প্রভাব ফেলে। এর থেকে বাজে চর্বি, চিনির মতো কিছু উপাদান ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। এতে শিশুর ওজন বেড়ে যায়। এটি পরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এসব খাবার এড়িয়ে শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো খুব দরকার।

 

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপটেন হোম রেমিডি জানিয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাবারের নাম।

 

১. দুধ

 

দুধ শিশুদের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দুধের দুটি জরুরি মিনারেল। এগুলো স্বাস্থ্যকর হাড়, দাঁত, নখের জন্য জরুরি। এ ছাড়া দুধের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, যেমন : প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন এ, বি২ ও বি১২। রয়েছে আয়োডিন, নায়াসিন ও ভিটামিন বি৬।

 

প্রতিদিন দুই গ্লাস দুধ বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের জন্য উপকারী। যদি শিশু শুধু দুধ খেতে পছন্দ না করে, এর মধ্যে বাদাম দিতে পারেন। এ ছাড়া দুধের তৈরি পুডিং বা কাস্টার্ড তৈরি করেও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

 

২. ডিম

 

বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের জন্য ডিম খুবই উপকারী একটি খাবার। এতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন। আর প্রোটিন বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের জন্য জরুরি। ডিমের মধ্যে রয়েছে বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যক্রমের জন্য দরকার। পাশাপাশি ডিমের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ডি, ফোলেট, জিংক, আয়রন ও সেলেনিয়াম। সপ্তাহে কয়েক দিন সকালের নাশতায় শিশুকে ডিম খাওয়াতে পারেন। এটি শিশুকে সারা দিনের কাজ করার জন্য শক্তি জোগাবে।

 

৩. ব্রকলি

 

এই সবজি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে কাজ করে। এই স্বাস্থ্যকর সবজিটির মধ্যে রয়েছে আঁশ, যা বাড়ন্ত শিশুর জন্য জরুরি। রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, পটাশিয়াম, ফলিক এসিড। এটি বি ভিটামিনেরও ভালো উৎস; এতে স্নায়ু পদ্ধতি ভালো থাকে।

 

শিশুকে প্রতিদিন ব্রকলি খেতে দিন। রান্না করে, সালাদের সঙ্গে বা জুস করেও খেতে দিতে পারেন। আর যদি এগুলো খেতে পছন্দ না করে, স্যুপও খাওয়াতে পারেন।

 

৪. দ‌ই

 

দই শিশুর জন্য বেশ উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি, জিংক ও ফসফরাস। প্রতিদিন দই খেলে হাড় ভালো থাকে। এটি শক্তিও জোগান দেয়। যদি দই খেতে শিশু পছন্দ না করে, এর মধ্যে ফল বা চকলেট চিপস দিতে পারেন।

 

৫. মিষ্টিআলু

 

বাড়ন্ত বয়সের শিশুর জন্য মিষ্টিআলু খাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে আছে বেটা ক্যারোটিন ও ক্যারোটিনয়েড। এগুলো চোখ ভালো রাখার জন্য দরকার। এ ছাড়া এটি ভিটামিন এ, সি ও ই, পটাশিয়াম, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও আঁশের ভালো উৎস। অনেক শিশু মিষ্টিআলু পছন্দ করে এর স্বাদের জন্য। একে সেদ্ধ করে বা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া মিষ্টিআলুর চিপস বানিয়েও শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

 

আর মাছ তো আছেই। তবে বাচ্চাদের সব ধরনের খাবার খাইয়ে অভ্যাস করালে একসময় তাদের খাবার নিয়ে আর চিন্তাই করতে হয় না। যেমন, ঝাল-টক-মিষ্টি জাতীয় খাবার। বাড়ন্ত বয়সে সব খাবারেরই প্রয়োজন আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *