সোমবার, জুন ১৮, ২০১৮, ৫:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রাজশাহী » বাঘায় শিক্ষার্থী ও পাশের হার নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ ১০ প্রতিষ্ঠান !

বাঘায় শিক্ষার্থী ও পাশের হার নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ ১০ প্রতিষ্ঠান !

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় মাধ্যমিক স্থরে শিক্ষার্থী ও পাশের হার নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছে ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসব প্রতিষ্ঠানকে চিহৃত করে চিঠি দিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় ২০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করেনি। অথচ শিক্ষকের কোটা পরিপূর্ণ। এদের ফলাফল যেমন নি¤œগামী তদরুপ বিদ্যালয় স্থাপনেও নীতিমালা অনুসরন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৯ টি। এর মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ম নীতি মেনে প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকারি হিসাব মতে এই প্রতিষ্ঠান গুলোয় সর্বনি¤œ ১ হাজার শিক্ষার্থী থাকার কথা । অথচ বাস্তবতায় মিলবে ২ থেকে ৩ শ জন। অথচ শিক্ষক- সহ অন্যান্য কর্মচারি’র কোটা পরিপুর্ণ রয়েছে এ সব প্রতিষ্ঠানে
অভিযোগ রয়েছে, গত বিএনপি সরকার আমালে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বাঘায় গড়ে তোলা হয় অসংখ্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য যেসব নীতিমালা প্রজেজ্য তার কোনটিই বাস্তবতায় মিলবে না। বলা যেতে পারে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে টাকা কামিয়েছে নিয়োগ কমিটি। এর ফলে শিক্ষার মানও দিন-দিন নি¤œগামী হচ্ছে ।
বাঘায় যে ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিহৃত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-দীঘা জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়, আমোদপুর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খোর্দ্দ বাউসায় উচ্চ বিদ্যালয়, বানিয়া পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, অমরপুর উচ্চ বিদ্যালয়,ধনদহ জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হরিনা উচ্চ বিদ্যালয়, এবং জোতনশী,সরের হাট ও ছাতারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। সুত্র মতে, এই ১০ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেনি। যারা অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ জন অকৃতকার্য হয়েছে এবং একজনও জিপিএ ৫ পাইনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সমাজ সেবক ও দু’জন শিক্ষানুরাগী জানান, বাঘার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে পড়া-লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। কাগজে কলমে স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় অধিক শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তব অর্থ ভিন্ন। যখন প্রতিষ্ঠান অডিট হয় তখন পার্শ্ববর্তি দু’একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চর্তর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পুর্ণ করা হয়। অথচ এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ১২ জন করে শিক্ষক, একজন করে পিয়ন এবং দপ্তরী ও আয়া নিয়োগ রয়েছে। ভুক্তভুগিরা জানান, এ উপজেলায় প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রতিযোগিতায় নামেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ফ্রি পড়ানোর প্রতিশ্রæতিদেন। আবার এমনও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শিক্ষার্থীদের পোশাক এবং বাইসাইকেল কিনে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান জানান,২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষায় ( ৮ থেকে ২০ জনের মধ্যে) অংশ গ্রহন করতে পেরেছে এ রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১০ টি। এর মধ্যে কোনটিই (জিপিএ-৫)সহ শতভাগ পাশ দেখাতে পারেনি। তাই প্রতিষ্ঠান গুলোকে তালিকা করে চিঠি দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এহেন অবস্থা এটা আমার জানা ছিল না। যদি বাস্তব অর্থে পড়া-লেখার মান নি¤œ হয়ে থাকে এবং চিহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষার্থীর কোটা পূরনে ব্যার্থ হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *