শনিবার, জুন ১৬, ২০১৮, ৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Home » জাতীয় » বন্যায় মির্জাপুর পৌরসভায় ৯ ওয়ার্ডের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি

বন্যায় মির্জাপুর পৌরসভায় ৯ ওয়ার্ডের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুলমির্জাপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা: বন্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পরেছে।বন্যার পানি একটু কমতে শুরু করলেও বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ একটুও কমেনি।বন্যার পানিতে ৯ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্রিজ কালভার্ট, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভার মেয়র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ২০ কোটি টাকা দাড়িয়েছে।বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ্য লোকজন এ পর্যন্ত তেমন সরকারী ত্রান পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আজ বুধবার মির্জাপুর পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে বন্যা কবলিত লোকজনের দুর্ভোগের চিত্র।
পৌর সভা সুত্র জানায়,এবারের বন্যায় মির্জাপুর পৌর সভার ৯ ওয়ার্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।১নং ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরি, পুষ্টকামুরি চরপাড়া, ২ নং ওয়ার্ডের বাইমহাটি,প্রফেসরপাড়া,৩ নং ওয়ার্ডের বাজার,বাওয়ার রোড,আমজাদ হোসেন রোড,বংশাই রোড,৪ নং ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরি সওদাগরপাড়া, গারাইল, ৫নং ওয়ার্ডের হাতেম টাউন, বাওয়ার কুমারজানি, ৬নং ওয়ার্ডের পালপাড়া, বাইমহাটি, ৭ নং ওয়ার্ডের সরিষাদাইর, পাহাড়পুর, ৮ নং ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, আন্ধরা, পুষ্টকামুরি পালপাড়া এবং ৯ নং ওয়ার্ডের কুতুর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এসব এলাকায় বন্যার পানি ওঠায় ব্রিজ,কালভাট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।অধিকাংশ ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় লোকজন পানি বন্ধি হয়ে পরেছে। এলাকায় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাই।এছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মৎস খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস চাষীরা চরম বিপাকে পরেছে। বন্যার পানির স্্েরাত প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় বংশাই নদীর উপর নব নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একাব্বর হোসেন ব্রিজ ও লৌহজং নদীর উপর নির্মিত পাহাড়পুর ব্রিজ হুমকির মুখে রয়েছে ।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র ও মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি মো. সাহাদত হোসেন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্যায় মির্জাপুর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছে।বন্যার পানির কারনে প্রতিটি ওয়ার্ডের ব্রিজ, কালভাট, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়,দুযোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় এবং সরকারী ভাবেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি।ফলে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলোকে কোন সাহায্য ও ত্রান দেওয়া সম্ভব হয়নি।পৌরবাসির ক্ষতিগ্রস্থ্যদের দিকে তাকিয়ে হলেও জরুরী ভিত্তিতে সাহায্য ও বরাদ্ধ প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, সরকারী ভাবে এ পর্যন্ত ত্রান সমাগ্রী পাওয়া গেছে, তা পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় এবং জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বন্যা কবলিত এলাকা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন।

//এল//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *