শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ১২:১৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Home » অপরাধ » ফুলে ফেপে উঠেছে সম্পদ, বিটিসিএল কুষ্টিয়ার জুনিয়র এ্যাসিসটেন্ট মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ !

ফুলে ফেপে উঠেছে সম্পদ, বিটিসিএল কুষ্টিয়ার জুনিয়র এ্যাসিসটেন্ট মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ !

অনলাইন ডেস্ক :
কুষ্টিয়ায় বিটিসিএলের জুনিয়র এ্যাসিসটেন্ট মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ায় বিটিসিএলের টেলিকম বিভাগে ২ বছর পূর্বেও প্রায় ১৩ হাজারেরও বেশি টেলিফোন সংযোগ ছিল। অভিযোগ আছে, বিটিসিএলের জুনিয়র এ্যাসিসটেন্ট মিজানুর রহমানের দূর্নীতির কারনে পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতা দখল করেন। অতিরিক্ত ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়ে গ্রাহক সেবার মানের পরিবর্তে ক্যাবল স্থাপনের ভূয়া সিডিউল তৈরী করে অবৈধ ভাবে অর্থ আত্মসাতের মহড়া চালিয়েছেণ। বর্তমানেও চালিয়ে আসছেন। বিটিসিএলর গ্রাহকগণের সেবার মান উন্নয়ন না হওয়ার কারণে দিন দিন টেলিফোন সংযোগগুলো স্যারেন্ডার হচ্ছে। যা বর্তমানে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টেলিফোন সংযোগ এসে দাড়িয়েছে। এমনকি বিটিসিএল এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী কোন গ্রাহক টেলিফোনের জন্য আবেদন করলে ১/২ দিনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার কথা থাকলেও মিজানুর রহমান সেই টেলিফোন সংযোগ তার এরং টেলিফোন ও সংযোগ ফ্রি এবং লাইনম্যান চার্জ ইত্যাদি সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে আরো অতিরিক্ত খরচ ধরিয়ে ওই গ্রাহকের কাছ থেকে ১০/১২ হাজার টাকা বেশি আদায় করেন। শুধু তাই নয় গ্রাহকদেরকে সরকারের বিপক্ষে টেলিফোন সংযোগের নেটওয়ার্ক ভাল না এবং এডিএসএল ইন্টারনেট ভাল না বলে বুঝিয়ে সংযোগ নিতে নিরুৎসাহিত করারও অভিযোগ আছে। এসব কারনে বেশিরভাগ গ্রাহক টেলিফোন সংযোগ গ্রহনে জন্য আগ্রহী হন না। এছাড়া অনেক .বিটিসিএল গ্রাহকের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে বিটিসিএলের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তথ্য প্রমান এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
মিজানুরের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমান দিয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী লিঃ (বিটিসিএল) এর এমডি সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে প্রতিকার চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছে কর্মচারীরা।
এই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারী গাড়ির অপব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিসিএল কুষ্টিয়ার এক কর্মচারী জানান, আমরা জানিনা বিটিসিএল সরকারী গাড়িগুলো কোন কাজের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। তবে সামান্য যতটুকু জানি সেই আলোকে বিটিসিএল নি¤œ পোষ্ট অনুযায়ী গাড়ি দেয় বিটিসিএল এর জরুরী কাজের জন্য যাহা গ্রাহকের দ্রুত সময়ের কোন হলে সেই সমস্যার সমাধানসহ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা। অথচ অতিরিক্ত ম্যানেজার হিসাবে সরকারী গাড়ি দখল করে বিটিসিএল এর কাজের নামে অতিরিক্ত গাড়ীর তেল স্লিপ ইস্যু করে দেখানো হয় যে, বিটিসিএল এর জরুরী কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে। আসলে বিটিসিএলের কোন কাজ নয় গাড়ি ব্যবহার করেন মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত কাজের জন্য। এমনও অভিযোগ রয়েছে বিটিসিএলের গাড়ি সরকারী বিরোধী সংগঠনের কাজে ব্যবহার করা হয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি, সরকার বিরোধী নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং দূর-দূরান্তের আত্মীয় সজনদের বাড়িতে যাতায়াত ইত্যাদী কাজে ব্যবহার করা হয়। যা সম্পূর্ন অবৈধ। এই মিজানুর রহমান তৈল স্লিপ ইস্যু করে সরকারী অর্থ অপচয় করছে। এমনকি বিভিন্ন তৈল পাম্পের দোকানের নাম দিয়ে নিজেই ষ্ট্যাম্প সিল বানিয়ে সিডিউল তৈরী করেন। এছাড়া বর্তমান সরকারে বৈদ্যুতিক সেক্টর যথেষ্ট সচল থাকা সত্বেও সুইচ রুমের ইঞ্জিন সচল রাখার নামে অবৈধ ভাবে তেল স্লিপ দেখিয়ে প্রতি মাসে ২৫/৩০ হাজার টাকা বি,টি,সি এল এর অর্থ আত্মসাৎ করছে এই মিজানুর রহমান। এভাবে কুষ্টিয়া বিটিসিএলকে দিনদিন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন এই অভিযুক্ত অসাধু বিটিসিএল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
শুধু তাই নয়, প্রায় সময়ই বিএনপির বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে বিটিসিএলের সরকারী গাড়ি ব্যবহারসহ বিএনপির নেতাদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে রিসিভ করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছে দেওয়াসহ তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌছাতে বিটিসিএলের গাড়ী ব্যবহার করা হয়। বিটিসিএল কুষ্টিয়ার এক কর্মচারী জানান, মিজানুর রহমানের ক্ষমতার দাপটের কাছে এই অফিসের সবাই অসহায়। দুর্নীতিবাজ মিজানুরের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।
এই বিষয়সহ আরো কয়েকটি বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সেগুলো প্রকাশ হলে থলের ভেতর থেকে আরো বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক না। সব বিষয়ে আমার কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। সূত্র: দৈনিক কুষ্টিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *