সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮, ১২:৩৬:০১ পূর্বাহ্ণ
Home » অপরাধ » প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণ : ৭ জনের যাবজ্জীবন

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণ : ৭ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া থেকে রিয়াজুল ইসলাম সেতু :
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণের দায়ে সাতজনের যাবজ্জীবন ও একজনের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমারখালী উপজেলার উত্তর পার সাওতা গ্রামের মিন্টু শেখ, সাহেব আলী ওরফে সিহাব, জমির শেখ, মসলেম শেখ, আরিফ শেখ, মোক্তার হোসেন শেখ ও সোহেল উদ্দিন শেখ। এছাড়ও যদুবয়রা গ্রামের আরিফকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার গরিপাশা গ্রামের আব্দুল হামিদ মাস্টারের মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী বিউটি খাতুন (১৮) তার ভাই এবং ভাবির সঙ্গে বর্তমান ঠিকানা কুষ্টিয়া শহরের কুঠিপাড়ায় রোকন উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে শহরতলীর দবির মোল্লা গেটের ফল ব্যবসায়ী আরিফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক সময় উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ঘটনার দিন ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিউটি খাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দবিরমোল্লার গেটে ডেকে নেন আরিফ। বিকেলে আরিফ তাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর পার সাওতা গ্রামে বন্ধু মোস্তাকের বাড়িতে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে নাস্তা আনার নাম করে আরিফ সরে পড়েন। এ সময় মোস্তাক বিউটিকে কুপ্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে রাত ১০টার দিকে বিউটি একা বেরিয়ে পড়েন এবং অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় চান। আশ্রয় না দিয়ে বাড়ির লোকজন তাকে বের করে দেন। এই সুযোগে পূর্বপরিকিল্পতভাবে আরিফ ও তার সহযোগীরা মিলে পাশের কলা বাগানে নিয়ে বিউটিকে গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

পরে বিউটি লাহিনী পাড়ায় ঢাকা মহাসড়কে ওঠে বাস ধরে বাড়ি ফিরে আসেন এবং তার ভাবিকে ধর্ষণের কথা খুলে বলে। এ ব্যাপারে বিউটি খাতুনের ভাবি ঝুমুর খাতুন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাতজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়াও একজনকে বেকসুর খালাসের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন দুলাল এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মীর আরশেদ আলী মামলাটি পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *