মঙ্গলবার, মে ২২, ২০১৮, ১২:২৫:০০ অপরাহ্ণ
Home » পর্যটন » পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

ডিটিবাংলা ডেক্স:

পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বেলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে শারদীয় দুর্গোৎসব ও আশুরার ছুটিতে দূরদূরান্ত থেকে সৈকতে ছুটে এসেছে বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

 

স্থানীয় রাখাইন মার্কেট, ঝিনুকের দোকান, খাবারঘর, চটপটির দোকানসহ পর্যটনমুখি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। দেশিবিদেশি পর্যটকদের আগমনে সৈকতের কোথাও তিল ধারনের ঠাঁই নেই। স্থানীয় হোটেল-মোটেলগুলোতে ফাঁকা নেই কোনো সিট। এমন অবস্থা আরো দুই-এক দিন থাকতে পারে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ীরা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈকত লাগোয়া নারিকেল বাগান, ইকোপার্ক, ইলিশপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, ফকির হাট, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, লেম্বুর চর, শুঁটকি পল্লী ও কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী পর্যটকদের আগমনে আনন্দময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক আল মামুন জানান, তরুণ সংঘ নামের ৫০ জনের একটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার কুয়াকাটার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় তারা কুয়াকাটায় পৌঁছে। পরে একই হোটেলে রুম না পেয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন হোটেলে ওঠেন। রান্নার স্থান না পাওয়ায় তাদের রাস্তার ঢালে রান্না করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

রজশাহী গার্হস্থ্য আর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম জানান, কুয়াকাটার সব দিক ঠিক আছে। কিন্তু রাস্তা খুবই খারাপ। সৈকতের অপরূপ দৃশ্য অসাধারণ লাগছে।

ঢাকায় চাকরি করেন মো. ইব্রাহিম। তিনি জানান, সব মিলিয়ে কুয়াকাটার পরিবেশ ভালোই লেগেছে। এর আগেও তিনবার এখানে এসেছি। তবে হোটেলে সিট না পেয়ে এবার এক রুমে আমাদের সাতজনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়েছে।

 

কুয়াকাটা খাবার হোটেল ঢেউয়ের পরিচালক অনোয়ার হোসেন আনু জানান, পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সামুদ্রিক মাছসহ উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করছি। পর্যটকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

কুয়াকাটা হোটেল ওয়েস্টার্নের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, শারদীয় দুর্গা উৎসব ও আশুরার ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তাদের আবাসিক হোটেলের একটি সিটও খালি নেই। তারপরও বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা বুকিংয়ের জন্য ফোনকল বা অনলাইনে চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

 

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরিফ জানান, বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসলেও শীত মৌসুমে রেকর্ডসংখ্যক আগমন ঘটবে। এ অবস্থা আরো দুই একদিন থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের এএসপি আব্দুল করিম জানান, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি মহিপুর থানা পুলিশের টহল দলগুলো বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মোতায়েন রয়েছে।

 

ডিটিবাংলা/৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ /আর.এ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *