শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮, ১২:১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
Home » সম্পাদকীয় » নির্বাচন কমিশনের সংলাপ

নির্বাচন কমিশনের সংলাপ

শেষ হল নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপ অনুষ্ঠান। ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এ সংলাপের শেষদিনে সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও সচিবসহ ১৬ জন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। শেষদিনের সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আস্থা অর্জন জরুরি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি হলে ইসির পক্ষে অংশগ্রণমূলক নির্বাচন করা কঠিন হবে। বস্তুত এটি একটি চ্যালেঞ্জ এবং ইসিকে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। বস্তুত প্রতিটি নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিকভাবে অসহিষ্ণু এ দেশে নির্বাচন, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য সবার অংশগ্রহণ জরুরি।
একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতে খুব বেশি সময় নেই। এর মধ্যেই তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। কাজটি কঠিন হলেও অসাধ্য নয়। এটি অনেকাংশে নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার ওপর। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশনের একার নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পাশাপাশি কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারের বৃত্ত থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মুক্ত হতে পারলে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব নয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যে কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলো হচ্ছে নির্বাচনী আইন সংস্কার, সীমানা পুনঃনির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠান। গত মঙ্গলবার শেষ হওয়া সংলাপে ইতিপূর্বে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবি-দাওয়া পেশ করেছে। তবে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো পেশ করেছে ৫৭৮ দফা প্রস্তাব। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৪০টি দলের মধ্যে ২৪টিই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে ১৮টি দল, অন্তর্র্বতী সরকার দলীয় থাকার কথা বলেছে ১২টি দল। এর বিপরীতে নিরপেক্ষ সরকার চেয়েছে ১১টি। ইভিএমে ভোট গ্রহণের পক্ষে ১২টি দল প্রস্তাব দিলেও এর বিপক্ষে মত দিয়েছে ১০টি দল।
এটা স্পষ্ট, আগামী নির্বাচন কোন্ পরিবেশে ও কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। এই মতভিন্নতা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মতবৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের যে আয়োজন করেছিল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এর মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের একটি বড় ধাপ অতিক্রম করেছে। এখন কমিশন যদি উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে, যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম, তবেই সার্থক হবে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ আয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *