বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১, ২০১৯, ১২:৩৯:৩০ অপরাহ্ণ
Home » অপরাধ » নির্বাচনের খরচে চোখ রাখছে দুদক

নির্বাচনের খরচে চোখ রাখছে দুদক

অনলাইন ডেস্ক :

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ এখন নির্বাচনী মাঠে। প্রচারণায় অস্বাভাবিক অর্থ বা কালো টাকা ব্যবহারকারী প্রার্থীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট। দুদক পর্যবেক্ষণ করছে, নির্বাচনবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার জন্য অর্থ ব্যয় কারা করছে, সেই অর্থ কোত্থেকে আসছে। হলফনামার অস্বাভাবিক সম্পদ কীভাবে জমেছে। যাদের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে সম্পদ ও কালো টাকা ব্যবহারের দৃষ্টান্ত দেখা যাবে, তাদের আইনের আওতায় নেবে দুদক।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কতগুলো গরু ও খাসি জবাই করা হলো, কত বড় উৎসবের আয়োজন হলো, কতগুলো রঙিন পোস্টার টানানো হলো- এসবসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যে কোনো ক্ষেত্রেই কালো টাকার ব্যবহার বেআইনি। নির্বাচনী প্রচারণায় যারা কালো টাকা ব্যবহার করবেন, তাদেরও তালিকা করা হবে। এ লক্ষ্যে কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট কাজ শুরু করেছে। কালো টাকা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের দুদক কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের ধন-সম্পদ ও প্রচারণা খরচ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সারাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের মোট এক হাজার ৮৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় ওই দিন থেকেই তারা প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন। তাদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন দুদকের গোয়েন্দারাও।

ইসি প্রার্থীদের প্রচারণার ক্ষেত্রে ভোটারপ্রতি আট টাকা ও প্রার্থীদের এলাকাভিত্তিক গড়ে ২৫ লাখ টাকা খরচের হিসাব বেঁধে দিয়েছে। কোনো প্রার্থী এর বেশি খরচ করলে তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে।

দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এবারই প্রথম নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ও লাগামগীন অর্থ খরচের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামল কমিশন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্বাচনে জেতার জন্য প্রার্থীদের বিনিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার প্রার্থীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে। এতে পেশিশক্তি ও কালো টাকার মালিকরা নির্বাচিত হন। পরে তারা বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।

এরই মধ্যে কিছু প্রার্থীর হলফনামার সম্পদের হিসাব নিয়ে যেসব খবর বেরিয়েছে, তা দুদক বিশেষভাবে আমলে নিয়েছে। তাদের মধ্যে রাজধানীর নিকটবর্তী একটি জেলা সদরের একজন প্রার্থীর সম্পদ বেড়েছে ১,২২৮ শতাংশ। কারও কারও ক্ষেত্রে একশ’, দুইশ’, তিনশ’ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বেড়েছে।

এসব সম্পদের বৈধ উৎস আছে কি-না, এসব অর্থ বৈধ কি-না- এ প্রশ্ন সামনে এনেছে রাষ্ট্রের একমাত্র দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান দুদক। আইন অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তির সম্পদ অনুসন্ধান করতে পারে দুদক। এবার দুদক জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামার অস্বাভাবিক সম্পদ ও নির্বাচনী প্রচারণায় কালো টাকা ব্যবহারের প্রমাণ অভিযোগ হিসেবে আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তারা তাদের হলফনামায় সম্পদের সঠিক হিসাব দেবেন- এটাই কমিশনের প্রত্যাশা। হলফনামার সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যাংক ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *