সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮, ২:১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » ধর্ষনের পর স্কুল ছাত্রী রুমী হত্যা গ্রেফতারকৃত চার আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

ধর্ষনের পর স্কুল ছাত্রী রুমী হত্যা গ্রেফতারকৃত চার আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে ধর্ষন ও নির্মম ভাবে হত্যার ১০ দিন পর অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী রুমী(১৪) লাশ সিলেট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও মিথা বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে ধর্ষনের পর নির্মম ভাবে খুন করেছে বলে পুলিশ জানায়।ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুলহোতা শফিক(২৬), তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, দুই ভাবি দিপা ও লাভলীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।গ্রেফতারের পর আজ রবিবার তাদেও আদালতে হাজির করলে প্রধান আসামী ঘাতক শফিক ও, তার স্ত্রী সোনালী ও দুই ভাবি স্কুল ছাত্রী রুমীকে নির্মম ভাবে হত্যার কথা আদালতের বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধি দিয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেটের বিশ^নাথ থানার এসআই মো মহব্বত হোসেন আজ রবিবার রাতে জানিয়েছেন।আসামীরা স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধি দেওয়ায় রিমান্ডে আনা হয়নি।এদিকে আজ রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকে মির্জাপুর থেকে নিখোঁ স্কুল ছাত্রীর লাশ সিলেটে উদ্ধার শীর্ষক একটি সংবাদ ছাপা হলে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপার শুরু হয়।
এসআই মহব্বত জানান, রুমীর পিতার মো. আতাউর রহমান। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাদগ্রাম এলাকার আউটপাড়া গ্রামে।রুমী মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রুমী ছিল ছোট।গত ৪ সেপ্টেম্বর রুমীর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালের তিন তলায় মেডিসিন বিভাগের ৫২ নম্বর বেডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়।ঐ ওয়ার্ডে রুমীর পাশের ১৩ নম্বর বেডে মির্জাপুর এলাকার সোহাগপুরের ঘাতক শফিক মিয়ার শ^াশুরী মনোয়ারা বেগম(৫০)চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।শ^াশুরীকে দেখা-শোনা করতে এসে শফিকের সঙ্গে স্কুল ছাত্রী রুমীর পরিচয় হয়।পরিচয়ের এক পর্যায়ে রুমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।প্রথমে রুমিকে সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রভাসির কাছে বিয়ের প্রলোভন দেখায়।কিন্ত সে কথায় প্রথমে রুমী রাজি না হওয়ায় পওে শফিক বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়।শফিক বিবাহিত হলেও তা রুমির কাছে গোপন রেখে।নানা কৌশলে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতারক শফিক কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে রুমীকে ফুসলিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে সিলেটের উদ্যেশে রওয়ানা হয়।সিলেটের বিশ^নাথ থানার গ্রামের বাড়ি নিয়ে নানা কৌশলে রুমীকে ধর্ষন করে হত্যার পর রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।আর এই ঘটনা শফিকের ভাবি দিপা ও লাভলী এবং স্ত্রী সোনালী জেনেও তা পুলিশকে অবহিত করেনি।
এদিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা ওয়ার্ডের বেডে রুমীকে না পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও রুমির স্বনদের ফোনে হাসপাতালে আসতে বলেন।খবর পেয়ে রুমীর ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেন হাসপাতালে আসেন।পরে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রুমীর ভাই শফিকুল বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
রুমীর ভাই শফিকুল ইসলাম াভিযোগ করেন, রুমীকে খুনের পর লাশ গুম করার জন্য বিশ^নাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার পাঠাকইন গ্রামের রাস্তার খালের পাশে লাশ ফেলে দেয় শফিক ও তার সহযোগিরা।স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে পরে বিশ^নাথ থানা পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করে।এ নিয়ে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে রুমীর স্বজনরা রুমির ছবি নিয়ে বিশ^নাথ থানায় গিয়ে রুমির লাশ সনাক্ত করে।
মির্জাপুর ও সিলেটের বিশ^নাথ থানার পুলিশ কুমুদিনী হাসপাতালের ভিডিও ফোটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল ওহাব উল্লার ছেলে শফিক মিয়াকে মির্জাপুর উপজেলার নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরী থেকে গ্রেফতার করে।তার দেয়া তথ্যে স্ত্রী সোনালী আক্তারকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।এরপর সিলেটের বিশ^নাথ থেকে আশ্রয়দতা শফিকের দুই ভাবি দিপা ও লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে বিশ^নাথ থানার পুলিশ অফিসার ও মামরার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. মহব্বত হোসেন আজ রবিবার বলেন, ঘাতক শফিক পেশায় একজন প্রতারক চক্রের সক্রীয় সদস্য।তার বিরুদ্ধে মাদক ধর্ষনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।বিভিন্ন এলাকায় ৭-৮টি বিয়ে করেছে এবং তার ৭ জন ছেলে মেয়ে রয়েছে।নিজের পরিচয় গোপন করে সে মির্জাপুরে এসে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী নেয়।রুমীকেও একই ভাবে প্রতারনার ফাতে ফেলে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে।মামলার পর ঘাতক শফিক, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, দুই ভাবি দিপা ও লাভলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আজ তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা রুমী হত্যার স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধি দিয়েছে।ফলে তাদেও রিমান্ডে আনা হয়নি।
রুমীর ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেন বলেন, রুমী ছিল থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্তান্ত।এ পর্যন্ত তার শরীওে ২৭ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।তারপরও সে ভাল হয়নি।প্রতারক শফিক অসহায় রুমীর সঙ্গে যে ভাবে প্রতারনা করে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তারা ঘাতক শফিক ও তার সহযোগিদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *