শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮, ৭:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » দ্বিগুন টাকা পেতে স্থাপনা তৈরির হিড়িক

দ্বিগুন টাকা পেতে স্থাপনা তৈরির হিড়িক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় প্রস্তাবিত গফরগাঁও বরমি মাওনা দুই লেন আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশের জমিতে স্থাপনা তৈরির হিড়িক পড়েছে। দিনে রাতে চলছে স্থাপনা তৈরির কাজ। স্থানীয় এক শ্রেণির লোক জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে ‘ক্ষতি পূরণের টাকা ভাগাভাগির চুক্তিতে’ এসব স্থাপনা তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে দুই লেন আঞ্চলিক মহাসড়কের জন্য সরকার এসব জমি অধিগ্রহণ করছে। সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে জমির পাশাপাশি জমির ওপর নির্মিত অবকাঠামোর জন্য আলাদা মূল্য ধরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ২৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেকে) ২৬৭ কোট টাকা ব্যয়ে গফরগাঁও, বরমী, মাওনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৪.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের গফরগাঁও-ত্রিমোহনী অংশ উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ দুই লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পের অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সওজ। প্রকল্পে প্রায় ৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১৩ কোটি টাকা। দুই লেন (১৮ ফুট সড়ক ও উভয় পাশে ৩ ফুট করে সার্ভিস লেন) আঞ্চলিক মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে ২৪ ফুট জায়গা, যা বর্তমানে কিছু অংশে রয়েছে ১২ ফুট, কিছু অংশে রয়েছে ১৮ ফুট সড়ক।

সরেজমিনে গফরগাঁও-ত্রিমোহনী সড়ক ঘুরে দেখা গেছে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের পর বিশেষ করে গত নভেম্বর মাস থেকে সড়কের দুই পাশের জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসে গফরগাঁও পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকা থেকে শুরু করে নিগুয়ারী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজার পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে পাকা, আধাপাকা ও টিন দিয়ে তৈরি মার্কেট, বাড়ি এবং নামমাত্র মত্স্য ও পোল্ট্রি খামার, ফল বাগান, গাছের চারার নার্সারিসহ প্রায় সহস্রাধিক স্থাপনা ছাড়াও পৌর শহরের শেষ সীমানা মীরবাড়ি এলাকায় টিনের ঘর গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে এসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে এবং অধিকাংশই নির্মিত হয়েছে ফসলি জমিতে। আর এসব স্থাপনা তৈরিতে জড়িত রয়েছেন এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক। সওজ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ জরিপ এখনো করা হয়নি।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিহাব খান বলেন, ‘যারা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় নতুন করে স্থাপনা তৈরি করেছেন, তারা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *