মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮, ১২:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » দিনাজপুরে পুকুরের উপর ঘর বানিয়ে হাঁস ও মাছ চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

দিনাজপুরে পুকুরের উপর ঘর বানিয়ে হাঁস ও মাছ চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ঃ মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরের হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। দিনাজপুরের ১০নং কমলপুর ইউনিয়নের হাঁসপুকুর, ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর, ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের পূর্ব শিবরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার চাষীরা পুকুরের উপর ঘর বানিয়ে মাছ ও হাঁসের সমন্বিত চাষ করে ব্যাপক সাফল্য ও লাভবান হচ্ছেন। এ পদ্ধতির সুফল হলো- একই সঙ্গে মাছ ও হাঁস পালনের মাধ্যমে বাড়তি আয় করা যায়। এই পদ্ধতিতে পুকুরে বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না। ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে ১০০-১৫০টি হাঁস, ১৫০০-২০০০টি মাছের পোনা এবং একটি হাঁসের ঘর লাগবে। সঙ্গে লাগবে পাহারাদারের জন্য একটি ঘর। হাঁসের জন্য পুকুরের পাড় কিংবা পুকুরের ওপর খোলামেলা উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে। যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। দেশীয় হাঁস ছাড়াও ইন্ডিয়ান রানার ও খাকি ক্যাম্পেবেল নির্বাচন করা যেতে পারে। এই জাতের হাঁস পাঁচ মাস বয়স থেকে দুই বছর পর্যন্ত বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দেয়। শুকনো খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে ভেজা খাদ্য দিতে হবে। সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে হাঁস চাষ করায় পুকুরে মাছের বিভিন্ন প্রকার খাবারের সৃষ্টির হয়। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করা যেতে পারে। প্রতি শতকের জন্য সিলভার কার্প ১০-১৫টি, কাতল/বিগ্রেড ৬টি, মৃগেল ৬টি, কালবাউশ ৩টি, গ্রাস কার্প ৩টি, সরপুঁটি ৭-১০টি। মাছের প্রজাতির মধ্যে সিলভার কার্প ও কাতল পানির উপরের স্তরে খাদ্য খায়, গ্রাস কার্প পুকুরের জলজ আগাছা ও ঘাস খায়, কমন কার্প পুকুরের তলদেশের খাদ্য খায়। এ ছাড়াও মৃগেল, কালবাউশ, মিরর কার্প, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৪০-৫০ শতাংশের একটি পুকুরে ১০০টি হাঁসের জন্য এ প্রকল্প শুরু করলে সব মিলে খরচ দাঁড়াবে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। সঠিক পরিচর্যা আর যতœ নিতে পারলে প্রথম বছরে যাবতীয় ব্যয় বাদ দিয়ে ৬০-৯০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হতে পারে। হাঁস ও মাছ সমন্বিত চাষীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দিনাজপুর যুব উন্নয়ন ও মৎস্য অফিসে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস ও মাছ চাষাবাদ করে বাড়তি আয়সহ সাবলম্বী হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *