শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯, ১২:১৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Home » জাতীয় » থামেনি তিস্তার ভাঙন বিলিন হচ্ছে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি

থামেনি তিস্তার ভাঙন বিলিন হচ্ছে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি

এ মান্নান আকন্দ,সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
থামেনি তিস্তার ভাঙন। অসময়ে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে রবি মৌসুমের নানা প্রজাতের উঠতি ফসলসহ বসত বাড়ি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। টানা ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। এক মাসের ব্যবধানে এক হাজার একর আবাদি জমিসহ পাঁচ শতাধিক বসত বাড়ি নদীগভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজারও একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো ঠান্ডায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তানদী এখন মরায় পরিনত হয়েছে। তিস্তার বুক জুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর। পলি জমে তিস্তার মুলনদী একাধিক শাখায় পরিনত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় ওইসব শাখানদীতে তীব্র ¯্রােত দেখা দিয়েছে। স্্েরাতের কারনে উজানে ভাঙনে তিস্তার বালু চরের সবুজের সমারহ ও বসতবাড়ি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে আলু, বেগুন, পিয়াচ, মরিচ, ভুট্টা, কুমড়া, গম, সরিষা, কফি, তিল, তিশিসহ নানাবিধ উঠতি ফসলের সমাহার দেখা দিয়েছে। কিন্তু সর্বনাশা তিস্তা সে ফসল ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। কথা হয় কাপাসিয়া ইউনিয়নের বোচাগাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন তিস্তার ভাঙনে আমরা চরাঞ্চবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এ সময় নদী ভাঙার কথা নয়। অথচ গত এক মাস থেকে নদী ভাঙন চলছে। যার কারনে কাপাসিয়া ইউনিয়নের প্রায় হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি নিমেষের মধ্যে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। চরের মানুষ তরিতরকারির আবাদ করে ৬ মাস সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসেছে। তিনি আবও বলেন তার তিন বিঘা জমির ভুট্টা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এছাড়া এক বিঘা জমির বেগুন ক্ষেতের প্রায় বেশিভাগ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান- নদী ড্রেজিং এবং খনন করা ছাড়া নদীভাঙন রোধ করা কোন ক্রমে সম্ভব নয়। কারন দীর্ঘদি ধরে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে হলে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী জানান নদী ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোডের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান নদীভাঙন রোধ একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। তবে নদী সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *