শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ১০:৪৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » তিন যুবককে অপহরন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপনের অভিযোগ দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

তিন যুবককে অপহরন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপনের অভিযোগ দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃÑ
দুই থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তিন যুবককে অপহরন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেরার ধেরুয়া উড়াল সেতু ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় গতকাল বুধবার বিকালে। অপহরনের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিার মির্জাপুর থানার এএসআই মুসরাফিকুর রহমান ও কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।সম্প্রতি মর্জিাপুর থানার এসআই মো, সোহলে কুদ্দুছ এক প্রভাসরি বাড়তিে ডাকাতরি অভযিোগে প্রত্যাহার হয়ছে।ে
অপহৃতরা হলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার হান্নান সরকারের ছেলে রায়হান সরকার (২২), একই এলাকার লতিফ সরকারের ছেলে লাবিব হোসেন (২১) ও শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে নওশাদ ইসলাম ওরফে মাহফিন (২৪)।
আজ বৃহস্পতিবার অপহৃত ও তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে রায়হান সরকার, লাবিব উদ্দিন, নওশাদ ইসলাম, তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তারা গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং ষ্টেশনে যান। গ্যাস নেওয়ার সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান গাড়ি থেকে নেমে পাশের দোকানে চা খেতে যান। গ্যাস নিয়ে তাদের গাড়িটি ফিলিং ষ্টেশন থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসরাফিকুর রহমানসহ ৩-৪ জন লোক একটি হাইচ মডেলের মাইক্রো নিয়ে ওই যুবকদের গাড়ি গতিরোধ করে। পরে গাড়ি থেকে রায়হান মিয়া, লাবিব উদ্দিন ও নওশাদ ইসলাম জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এসময়ে চা খেতে যাওয়া বাকি দুই বন্ধু রক্ষা পায়। পরে ওই তিন বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ধেরুয়া এলাকায় নির্মানাধীন উড়াল সেতুর নীচে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিন বন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বেশ কিছু সময় তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেন-দরবার হয়। একপর্যায়ে ওই দুই এএসআই তাদেরকে জানায় ১০ লাখ টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।
এরই মধ্যে তাদের হাত থেকে রক্ষাপাওয়া তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান মুঠোফোনে তাদের পরিবার ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে অবহিত করে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে দুই থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাদেরকে ওইদিন রাত ৮ টার দিকে মির্জাপুর থানায় এবং পরে রাত ১২ টার দিকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনাটি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জানাজানি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসরাফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অপহরনের কবল থেকে উদ্ধার হওয়ায় রায়হান সরকার জানান, তারা পাঁচ বন্ধু বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার সময় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের ধরে নিয়ে যায়। পরে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপন চাওয়া হয় তাদের কাছে। টাকা না দিলে ক্রসফায়ার নিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) মুসরাফিকুর রহমান এক সময় গাজীপুর জেলায় গোয়েন্দা পুলিশে এক সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় থেকে তাদের মধ্যে সক্ষতার সৃষ্টি হয়। ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় তারা বহু নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করার অনেক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি মুক্তিপন চাইনি, মুক্তিপন চেয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। আমি তাদের সহযোগিতা করেছি। তাদের সহযোগিতা করাটাই আমার ভুল হয়েছে।’
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ঘটনাটি জানার পর ওই দুই এএসআইকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে বলে এই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *