শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮, ১২:৪০:১৯ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » খুলনা » ডাকের একাল সেকাল

ডাকের একাল সেকাল

সালাহ উদ্দীন ইউসুফ, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে ঃ
চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও……….., চিঠি নিয়ে এধরণের অনেক গান ৯০’র দশক বা তার আগে আমাদের বেতার বা টেলিভিশনসহ সিনেমার পর্দায় আমরা দেখেছি এবং শুনেছি, যা এখন শুধুই স্মৃতি। সভ্যতার গোড়ার দিকে যখন ডাকের প্রচলন হয়নি বা ছিল না তখন মানুষ পোষা পায়রার পায়ে চিঠি বেঁধে প্রিয়জনের কাছে বার্তা পাঠাতো। কালের বিবর্তনে চিঠি আদান প্রদানের লক্ষ্যে সৃষ্টি হলো ডাক বিভাগ। প্রিয়জনের চিঠি পাবার আশায় ডাক পিওনের পথ চেয়ে থাকার দিন দিন গোনা হলো শুরু। সভ্যতার আগ্রগতি এবং বিজ্ঞানের বদৌলতে সে যুগ আর নেই। একবিংশ শতাব্দির অত্যাধুনিক বিজ্ঞানের যুগের মানুষ আমরা। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এ যুগে সব যোগাযোগই হয় এক নিমেষে অর্থাৎ ন্যানো সেকেন্ডে। মোবাইল ফোনের শর্ট ম্যাসেজ থেকে শুরু করে ই-মেইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, মেসেনজারসহ প্রযুক্তির কত সুবিধা এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। আজ আর শহরের চেয়ে কোন অংশে পিছিয়ে নেই গ্রাম অঞ্চল গুলোও। মোবাইল কোম্পানীর সুবাদে গ্রামের মানুষের কাছেও এখন অধুনিক সুবিধা পৌঁছে গেছে। যখন ইচ্ছে প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের সুযোগটা তারাও উপভোগ করছে। তাই বার্তা আদান-প্রদানের সাথে সাথে ভিডিও চিত্রও আদান-প্রদান হচ্ছে হরহামেশা। চিঠির বদলে সবার ভরসা এখন নতুন নতুন প্রযুক্তি উপর। এখন রাজধানী শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট ও ই-মেইল সেবা। তাই ডাক ঘরের মাধ্যমে মান্ধাতা আমল বা প্রাচীন যুগের চিঠি, টেলিগ্রাম সেবার প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে। বোধ করি সে কারণেই ডাক বিভাগের এই করুণ পরিণত হয়েছে। ডাকবাক্সগুলিতে চিঠির পরিবর্তে থাকছে ময়লা-আবর্জনা আবার কোথাও কোথাও ডাক বাক্স পরিণত হয়েছে কাঠবিড়ালীর বাসায়। জেলা এবং উপজেলার ডাকঘর ব্যতীত সবক’টিতেই এই নাজুক অবস্থা। একসময় ডাকঘর গুলো সব সময় মুখরিত থাকতো রানার কিংবা ডাক পিয়নের পদচারনায়। মানুষ ডাকঘরের সামনে অপেক্ষা করতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কারণ কখন যেন আসবে তাদের প্রিয়জনদের প্রেরিত চিঠি। কালের বিবর্তনে ডাক বিভাগের সেই ঐতিহ্য এখন ফিকে হতে বসেছে। উপজেলার প্রধান ডাকঘরসহ অধিকাংশ ডাকঘরে পাকা বিল্ডিং, সোলার প্যানেল স্থাপন ও আসবাবপত্র নতুন করে তৈরি করে বাহ্যিক চাকচিক্য বৃদ্ধি করলেও অধিকাংশ ডাকঘরের দাপ্তরিক কোনো কাজকর্ম নেই বললেই চলে। প্রতিটি ডাকঘরে একজন ডাক বিলিকারী ও একজন পোস্ট মাস্টার রয়েছে। তবে ডাকঘর গুলোতে রানার বা ডাক বিলিকারীরা সামান্যতম সম্মানী পান যা দিয়ে তারা চলতে পারেন না। ডাক বিভাগের এ করুণ অবস্থায় ডাক বিভাগের পুরাতন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞান ভিত্তিক পরিকল্পনাসহ আধুনিকী করণের দাবি সাধারন মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *