মঙ্গলবার, মে ২২, ২০১৮, ৭:৩৪:৫৬ অপরাহ্ণ
Home » আন্তর্জাতিক » ট্রাম্পের নোংরা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি

ট্রাম্পের নোংরা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মহাদেশটির কয়েকটি দেশ সম্পর্কে নোংরা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ৫৫ সদস্যের সংস্থাটির মিশন প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, তারা ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে স্তম্ভিত, হতাশ ও আতঙ্কিত এবং ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকানদের ভুল বুঝছে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে অভিবাসন নীতি নিয়ে এক বৈঠকের সময় হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকার কিছু দেশকে ‘শিটহোল’ বা ‘পায়খানার গর্তের’ তুলনা করার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশে নিন্দার ঝড় উঠে। তবে ট্রাম্প এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করছেন।

কিন্তু ওই বৈঠকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলের এক সেনেটর ডিক ডারবিন দাবি করেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে শুনেছেন। তিনি শুধু একবার নয়, কয়েকবার এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি কিছু আফ্রিকান দেশকে ‘শিটহোল’ বলে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমসারির সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়ালস্ট্রিট জার্নালসহ অনেক সংবাদপত্রেই বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশিত হয়।

ডারবিন বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না প্রেসিডেন্ট যে শব্দগুলো সেখানে ব্যবহার করেছেন, হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে, ওই ওভাল অফিসে বসে এর আগে কখনো কোনো প্রেসিডেন্ট তা বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই বৈঠকে বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা এরকম বিপর্যয়ের শিকার দেশগুলোর মানুষদের আশ্রয় দেয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বরং উচিত নরওয়ের মতো দেশ থেকে অভিবাসীদের আনা। ওয়াশিংটন পোস্ট ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্ধৃত করে বলেছে, এই সব ‘শিটহোল’ দেশ থেকে কেন লোকজনকে আমাদের দেশে আনতে হবে।

ডারবিন বলেন, যখন প্রেসিডেন্টকে জানানো হয় ‘টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) বা সাময়িক সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও হাইতির নাগরিক, তখন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হেইশিয়ান? আমাদের কি আসলে আরো হেইশিয়ানের কোনো দরকার আছে।

তবে শুক্রবার সকাল থেকেই ট্রাম্প একের পর এক টুইট করে এ ধরনের মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি হাইতির মানুষ সম্পর্কে বাজে কিছু বলিনি।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র রাজ শাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কিছু রাজনীতিক বিদেশি দেশগুলোর হয়ে লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছা সবসময়ই আমেরিকার জনগণের পক্ষে লড়াই করার। মার্কিন বর্তমান প্রশাসন অন্য অনেক দেশের মতো মেধা-ভিত্তিক অভিবাসনে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

বোতসোয়ানা তাদের দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এসব কথাবার্তা চরম দায়িত্বহীন, নিন্দনীয় ও বর্ণবাদী।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট এসব কথা সত্যিই বলে থাকেন সেটা স্তম্ভিত হওয়ার মতো ও লজ্জাজনক। তিনি বলেন, এটাকে ‘বর্ণবাদী’ বলা ছাড়া আর কিছু বলার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের একটি সংগঠন ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশেন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল’ বলেছে, প্রেসিডেন্ট দিনে দিনে আরো বেশি বর্ণবাদ আর বিদেশি বিদ্বেষের গর্তের গভীরে ঢুকে যাচ্ছেন।

কংগ্রেসের এক কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য সেডরিক রিচমন্ড বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আমেরিকাকে আবারো সেরা দেশে পরিণত করার নামে আসলে শ্বেতাঙ্গদের দেশে পরিণত করতে চাইছেন, এটা তার আরো একটা প্রমাণ।

চলতি সপ্তাহে এক ঘোষণায় ট্রাম্প প্রশাসন আগামী বছরের মধ্যে তিন দশক ধরে অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা সালভাদরের দুই লাখ লোককে দেশে ফিরে যেতে সময় দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা হাইতি ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের টিপিএসও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *