বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯, ৯:৫০:৩২ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুষ না দেওয়ায় ৭ শতাধিক গ্রাহক সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুষ না দেওয়ায় ৭ শতাধিক গ্রাহক সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর প্রধান কার্যালয়। এই অফিসে মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোন ফাইল নড়ে না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিসের এক শ্রেণীর দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাহিতা মত (মোটা অংকের) ঘুষ না দেওয়ায় চলতি মৌসুমে ৭ শতাধিক সেচের গ্রাহক সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে। নিয়মানুসারে লাইন নির্মানসহ সকল আনুষ্ঠানিকতার পর দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে চলতি মৌসুমে সেচ কাজ মারাত্বক ভাবে হুমকির মুখে পরেছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। আজ শনিবার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ নিয়ে প্রধান মন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন, গ্রামকে শহরে পরিনত করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি ঘোষনা দিয়েছেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। কিন্ত টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অফিসের গ্রাহকরা প্রধান মন্ত্রীর এই ঘোষনার তেমন কোন সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির বাসা বেঁধেছে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অফিসে। যুগ যুগ ধরে এই অফিনয়ম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি চলে আসলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগি গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, সেচ পাম্পের জন্য মাষ্টার প্লানে লাইন নির্মান, ট্র্যান্সফরমার সরবরাহ করা হলেও চাহিদা মত ঘুষ না দেওয়ায় নানা অযুহাতে গ্রাহকদের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, সখীপুর, কালিহাতী, ভুয়াপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, গোপালপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার সেচ গ্রাহকরা সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের সেচ পাম্পের গ্রাহকরা।
মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘি গ্রামের রজব আলী, আজিজ মিয়া, ওয়ার্শি ইউনিয়নের সহিদুর রহমান, ইদ্রিস আলী, ভাওড়া ইউনিয়নের তপন হাসান, রুহুল আমীন, আনাইতারা ইউনিয়নের জুলহাস মিয়া ও সাকোয়াত আলীসহ ২০-২৫ জন সেচ গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, মাস্টার প্লানে লাইন নির্মান, ট্র্যান্সফরমার বসানোসহ সকল কাজ সম্পন্ন করার পরও টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সতিতি-১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক শ্রেণীর দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা মত মোটা অংকের ঘুষ না দেওয়ায় তাদের সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। গ্রাহকদের অভিযোগ এবং বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিআরইবির চেয়ারম্যান সেচ পাম্পের গ্রাহকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত গতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলেও তা আমলে নিচ্ছে না। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বর্তমান জিএম রাম সংকর রায় অফিসে যোগদানের পর অনিয়ম ও দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টাঙ্গাইলে ১২ উপজেলার ৭ শতাধিক সেচ পাম্পের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) রাম সংকর রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ম মত যে সব গ্রাহক সেচের জন্য আবেদন করেছেন তাদের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে লাইন নির্মান করেছেন এবং অফিসে তাদের কোন কাগজপত্র জমা নেই কেবল তাদের লাইন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাচাই বাছাই করে তাদেরও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি এবং গ্রাহকদের হয়রানীসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা তিনি অস্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *