বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮, ১০:৪৭:২৮ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার-৪ পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার-৪ পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্টস কর্মী শিউলীকে ধর্ষন চেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফটেজ দেখে যাত্রীবাহী বাস আটক ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।।গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ঘটনার মুল নায়ক পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন(৩৫), নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে বাস চালক রুহুল আমিন (৩৫) ও তার ভাই রনি শেখ এবং বাসের হেলপার সোহেল রানা (২৬)।আজ বৃহস্পতিবার তাদের টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান এর কাছে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধি দিয়েছে।পরে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান আসামী আরিফ ও সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিন দিনের রিমান্ড মজ্ঞুর করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে চলন্ত বাসে শিউলী ধর্ষন চেষ্টা ও হত্যার বিষয়ে লিখিত ভাবে বিস্তারিত তুলে ধরেন টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার(মির্জাপুর সার্কেল) মো. আফসার উদ্দিন খান ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান, ওসি(তদন্ত) শ্যামল কুমার দত্ত ।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান বলেন, সম্প্রতি মির্জাপুর থানায় পরিদর্শনে এসে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার রায়ের নির্দেশে শিউলী হত্যা মামলার রেকর্ড হয়েছে।মামলার বাদী হয়েছেন শিউলীর স্বামী মো. শরিফ খান।মামলায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার পর থেকে শিউলী হত্যার রহস্য ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাÍ কর্মকর্তা মিজান ও ওসি তদন্ত শ্যামল কুমার দত্তসহ মির্জাপুর থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।অবশেষে তাদরে সফল অভিযান হয়েছে এবং শিউলী হত্যার রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।
গত ২৬ জুলাই চলন্তবাসে শিউলী আক্তার(২৬) নারী গার্মেন্স কর্মীকে হত্যা করা হয়।ঐ দিন সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় বর্বর এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, শিউলী আক্তারের স্বামীর নাম মো. শরিফ মিয়া।বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামে।জান জানায়, শিউলী গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্সে হেলাপার হিসেবে কাজ করতেন।ঘটনার দিন সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরপাড়া নামক স্থানে এলে তাদের বহনকারী বাস এসে দাড়ায়।শিউলী ভুলক্রমে তার আইডি কার্ড বাড়িতে রেখে আসায় ঐ বাসে না উঠে বাড়ি চলে যান।বাড়ি গিয়ে আইডি কার্ড নিয়ে এসে রাস্তার পাশে দাড়ায়।এ সময় টাঙ্গাইল থেকে চন্দ্রা গামী একটি যাত্রীবাহী বাস গ্রামীন পরিবহন (ঢাকা-মেট্রো- ব-১৫-৩৬৩৭) থামানোর জন্য হাত দিয়ে ইশারা করলে বাসটি থামায়।শিউলী বাসে উঠে এবং তার সঙ্গে আরিফ হোসেনও বাসে উঠে।আরিফ কম্পিট কম্পোজিট গামের্ন্টসে হেলাপারের কাজ করে।বাসে অন্য কোন যাত্রী ছিলনা।এই সুযোগে আরিফ শিউলীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শ্লীলতাহানিসহ ধর্ষনের চেষ্টা করে।এ ঘটনা দেখে বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার শিউলীকে কোন সাহাষ্য করেনি।শিউলী বাসের মধ্যে বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্ত চিৎকার করেও ধর্ষনকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।বাওয়ার কুমারজানি নামক স্থানে বাসটি এলে কয়েকজন মহিলা চিৎকারের শব্দ শুনে রাস্তার পাশে ছুটে এলে ধর্ষনকারীরা শিউলীকে হত্যার পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।আশপাশের লোকজন ও ঐ গার্মেন্টেসের কর্মরত হাসিনা বেগম নামে এক শ্রমিক এসে রাস্তার পাশে লাশ সনাক্ত করে শিউলীর স্বামী শরিফ খান ও পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে গোড়াই হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আরিফ হোসেন কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্টেসে ৭ টা ৫৬ মিনিটে প্রবেশ করে আবার কৌশলে ছুটি নিয়ে চলে আসে।এর সুত্র ও বাস চলাক ও হেলপারের স্বীকারোক্তিতে আরিফকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
এদিকে গত ৩১ জুলাই মির্জাপুর থানায় ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, তৎসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশো/০৩) এর ৯(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।মামলা নং-৪৫।মামলার পুলিশ শিউলী হত্যার রহস্য উৎঘাটন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের মাঠে নামেন।অনেক চেষ্টার পর শিউলীর হত্যাকরীদের অবশেষে গ্রেফতার করা হলো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, মামলা হওয়ার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন সিসি ক্যামেরা, বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় মা সিএনজি পাম্প ও ধেরুয়া এলাকায় নাসির গ্রুপের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে কারিয়াকৈরের বারইপাড়া এলাকার মিলেনিয়াম সিএনসি স্টেশন থেকে গ্রামীন পরিবহন যাত্রীবাহী বাস, বাসের চালক রুহুল আমিন, তার ভাই রনি শেখ, হেলাপার সোহেল রানা গ্রেফতার করা হয়।তাদের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার মুল নায়ক আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফ ও সোহেলকে জিঝ্হাসাবাদের জন্য তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *