রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ৫:৩৮:৫২ অপরাহ্ণ
Home » অর্থনীতি » ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ ৮ ব্যাংক

ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ ৮ ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার: ব্যাংকিং খাতে বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমান। এর প্রভার পেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণেও। এই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি-বেসরকারি খাতের আটটি ব্যাংক। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে আট ব্যাংকে ৯ হাজার ৩৭৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

খেলাপি ঋণের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা ডিসেম্বর-১৭ প্রান্তিকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতির অর্থ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্টান্ডার্ড ব্যাংক। এছাড়া নতুন করে এই ঘাটতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। এসব ব্যাংকের মোট ঘাটতির সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণেই ব্যংকিং খাতে বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ। আর এ সময়ে যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর-১৬ শেষে ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

একই সময়ে ওই আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সব চেয়ে ঘাটতি বেশি সোনালী ব্যাংকের। ডিসেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এরপরই বেসিক ব্যাংকের ঘাটতির পরিমান তিন হাজার ৪৯৫ কোটি ২ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ৮০ কোটি ৯০ লাখ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৯৫ কোটি ৪৩ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৫৯ কোটি ৫৩ লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৭৮ কোটি ৭৮ লাখ, স্টান্ডার্ড ব্যাংকের ২৭৫ কোটি ২০ লাখ এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৪৪ হাজার ২৯৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৫৭টি ব্যাংক সংরক্ষণ করে ৩৭ হাজার ৫২৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। অনেক ব্যাংক নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। ফলে সার্বিকভাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

//এল//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *