মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭, ২:০৭:৩৫ অপরাহ্ণ
Home » সম্পাদকীয় » জ্বালানি তেল নিয়ে জালিয়াতি

জ্বালানি তেল নিয়ে জালিয়াতি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চিঠিতে এমন কিছু তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে যে, কপালে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটে ওঠে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০০-০১ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ১৬ বছরে ১৩টি রিফাইনারি কোম্পানি জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৭,৫৬০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। কোম্পানিগুলো পরিশোধন ছাড়াই জ্বালানি তেল ভেজাল করেছে। আবার, রিফাইনারিগুলো পেট্রোবাংলার কাছ থেকে যে কনডেনসেট (গ্যাসের উপজাত) কেনে, সেগুলো থেকে পেট্রল, অকটেন ও অন্যান্য জ্বালানি তেল উৎপাদন করে বিপিসির কাছে বিক্রি করার কথা; কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তারা পেট্রোবাংলার মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ক্রয় করা কনডেনসেট পরিশোধন না করেই পুরোটা ভেজাল আকারে পাম্পগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। আরও অভিযোগ উঠেছে- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট উপরের ১৩টি রিফাইনারি কোম্পানির সঙ্গে আঁতাত করে এসব অপকর্ম করেছে ও করছে।
রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর এই বিশাল জালিয়াতি সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রথম কথা, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভেজালের এতসব কা- ঘটে গেল, অথচ প্রশ্ন উঠেছে এই দীর্ঘ সময় পর। পরিস্থিতি বুঝতে কেন এই বিলম্ব? এসব ভেজালের কারণে শুধু যে রাষ্ট্রের সম্পদ ও অর্থ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, তা-ই নয়; এর ফলে ভেজালকৃত জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়েছে যেসব যানবাহনে, সেগুলোর ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিকল হয়েছে। ঘটেছে পরিবেশ দূষণও। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর জড়িত কোম্পানিগুলোকে এক বছরের জন্য কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল, এখন মুচলেকা নিয়ে সবাইকে আবার তা দেয়া হচ্ছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, মুচলেকা দিলেই সব দোষ মাফ হয়ে যায়! এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে, মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজের কারণেই অপকর্ম হয়েছে বলে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্নীতি হতে পেরেছে, যার খেসারত হিসেবে লোপাট হয়েছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। আমরা মনে করি, যেসব রিফাইনারির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া উচিত কড়া ব্যবস্থা। একইসঙ্গে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটটিকেও রেহাই দেয়া চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *