সোমবার, আগস্ট ২০, ২০১৮, ৬:৫৮:৫৪ অপরাহ্ণ
Home » জাতীয় » ছুটছে মানুষ বাড়ি

ছুটছে মানুষ বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক :

প্রিয়জনের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। বাড়ি আর নাড়ীর টানে ঢাকা ছাড়া মানুষের জন্য ফাঁকা হচ্ছে নগরী।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্য মানুষ ঢাকা ছাড়লেও বৃহস্পতিবার ঈদযাত্রায় যোগ দিয়েছ নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সরকারি বা সেরকারি অফিসগুলো শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার। তারই প্রভাব পড়েছে রাজপথে। সকাল থেকেই রাস্তায় মানুষ আর মানুষ। অনেকেই শুধু উপস্থিত হওয়ার পরই অফিসের কাজ শেষ করে বের হয়ে গেছেন।

মতিঝিলের ব্যাংক পাড়াতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে সবাই চলছেন বাড়ির দিকে। সকালের দিকে চাপ একটু কম থাকলেও দুপুরে পর তার বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

চারদিকে শুধু ভিড় আর ভিড়। সড়ক, নৌ আর ট্রেন পথে একই চিত্র দেখা গেছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই।

বাড়তি চাপে যান দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। নির্ধারিত সময়ে ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেন, লঞ্চ ও বাস পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তাতে বিঘ্ন ঘটছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করার মতো। ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। যাত্রীদের চাপে আর হইহুল্লোরে নির্দিষ্ট সিটে পৌঁছাতেই বেশ বেগ পেতে হচ্ছে যাত্রীদের। উপচে পড়া ভিড়ে যোগ দিয়েছে আরেক ভোগান্তি গরম।

খুলনার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন আরিভানা শাহরিন পিশো। তিনি সমকালকে বলেন, পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। দুর্ভোগ হলেও ভালো লাগছে।

গাবতলী বাসস্যান্ডে সকাল থেকেই প্রচণ্ড চাপ। ভিড় ছড়িয়েছে বাসস্ট্যান্ড থেকে আর দূর পর্যন্ত। কিছু কিছু বাসের শিডিউলও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অনেকের কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুষ্টিয়াগামী ফরিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়েছে বাস কর্তৃপক্ষ। তারপরও বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে। পরিবারের সবাই বাড়িতে থাকেন; সেখানে ঈদ করব, এটাই বড় পাওয়া।

বাস-ট্রেনের মতো অতিরিক্ত চাপ পড়েছে লঞ্চ টার্মিনালেও। গত কয়েকদিন ধরে মোটামুটি ভিড় থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে তার মাত্রা বেড়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়ছে।

চাঁদপুর যাওয়ার জন্য লঞ্চে রওনা হয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহরিন আলম। তিনি সমকালকে বলেন, অফিসে উপস্থিতি দিয়েই রওনা হয়েছি বাড়ির উদ্দেশ্য। পরিবারের সবাই আগেই চলে গেছে।

বুধবার রাত পর্যন্ত রাজধানীর উপকণ্ঠ এলাকায় মহাসড়কে অতীতের মতো স্থবিরতা ছিল না। তবে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর মহানগরের সালনা পর্যন্ত তীব্র যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাটে নদী পারাপারে ফেরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়তে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের।

গত ৩০ মে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও বুধবারও বাসের টিকিট পাওয়া গেছে। তবে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে।

এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের স্বস্তি মিলছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মহাসড়কের মেঘনাঘাট এবং রূপগঞ্জের গাউছিয়া পর্যন্ত কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা নেই। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীসাধারণ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন।

বাস মালিক-শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক-দেড় ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। ঢাকায় বাসও ফিরছে একই রকম বিলম্বে।

গত বছর মহাসড়কে যানজটে বাসের সিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ হয়েছিল। আগের রাতের বাস পরের দিন দুপুরে ছাড়ার ঘটনা ছিল নিয়মিত। এবার তেমন দুরবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন হানিফ পরিবহনের উপমহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, রোববার রাতে যেসব বাস উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে ঢাকা থেকে যাত্রা করে, সেগুলো সোমবার দুপুর নাগাদ ঢাকায় ফিরে আসে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস আর বুধবার ছিল শবেকদরের ছুটি। বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে তাই অনেকেই বুধবারই ঢাকা ছেড়েছেন।

টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বুধবার দাবি করেছেন, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পাননি। এবার সড়কে ও টার্মিনালে চাঁদাবাজি হচ্ছে না।

টানা বৃষ্টি ও সড়কের উন্নয়ন কাজের কারণে এবার ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা ছিল। দুর্ভোগ সহনীয় রাখতে গত ৮ জুন থেকে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কের ভাঙাচোরাও মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ‘সংস্কার’ কাজ অনেক এলাকাতেই ধুয়েমুছে গেছে বলে সমকাল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *