সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ১:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » গৌরীপুর গৃহবধূকে দিনভর আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

গৌরীপুর গৃহবধূকে দিনভর আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি \
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শনিবার (১৭ ফেব্রæয়ারি) স্বামীর সাথে পরকিয়া সন্দেহে সেলিনা নামে এক নারীকে দিনভর একটি ঘরে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়। দিনভর নির্যাতন শেষে তাকে মুখে চুন-কালি মেখে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে এলাকায় ঘুরানো হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মা-মেয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত
গৌরীপুর পৌর শহরের ইসলামাবাদ মহল্লার সিএনজি চালক সোলেমান মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগম পৌর এলাকায় বিভিন্ন বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামী-সন্তান ও শশুর-শ্বাশুড়ির সাথে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন সেলিনা বেগম। প্রতিবেশী শহীদ মিয়ার সাথে গৃহপরিচারিকা সেলিনার পরকিয়া প্রেম রয়েছে বলে গত কয়েকদিন আগে অভিযোগ তোলেন একই মহল্লার শহীদের স্ত্রী নাছিমা আক্তার ওরফে টুক্কুনি। স্বামীর সাথে পরকিয়ার অভিযোগ এনে গত শুক্রবার সেলিনাকে বাড়িতে এসে বকাঝকা ও হুমকি দেন নাছিমা। শনিবার সকালে বিষয়টি শহীদকে মুঠোফোনে জানিয়ে বিচার চান সেলিনা। এতে ক্ষিপ্ত হয় নাছিমা। শনিবার সকাল ১১ টার দিকে একটি বাসা থেকে কাজ শেষে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাস্তা থেকে সেলিনাকে ধরে নিয়ে যায় নাছিমা। তাকে নাছিমার ঘরে নিয়ে চালানো হয় নির্যাতন। নাছিমার সাথে নির্যাতন চালাতে সহযোগিতা করে নাছিমার মা হাবিলা ও বোন স্মৃতি আক্তার।
নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকাল ১১ টায় সেলিনাকে ধরে নিয়ে বিবস্ত্র করে ফেলা হয় এবং বিকালা ৪টা পর্যন্ত ঘরে আটকে রেখে চালানো হয় নির্যাতন। লাঠি পেটা, স্পর্শকাতর স্থান বুকে ও যৌনাঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে কোমড়, ও বেøড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। এর পর ক্ষতস্থানে মরিচ গুড়ো ও লবন মিশিয়ে লাগানো হয়। নির্নম নির্যাতনে সেলিনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও নারীদের অ¯্রাব্য গালাগালের মুখে সবাই ফিরে আসেন। শুধু এতেই ক্ষ্যান্ত থাকেননি নির্যাতনকারীরা। বেলা ৪ টার পর নাসিমার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। তার পর মুখে চুন-কালি মেখে ও জুতার মালা পড়িয়ে লাঠিপেটা করতে করতে রাস্তায় বের করে আনা হয় এবং ইসলামাবাদ সড়কে সেলিনাকে লাঠিপেটা করতে করতে ঘুরানো হয়। ওই সময় নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে অনেকের পা’ ঝাপটে ধরেন সেলিনা। কিন্তু নাছিমার রোষাণল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারেনি সেলিনাকে।
নির্যাতন শেষে বেলা ৫ টার দিকে সেলিনাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় নাছিমা ও তার লোকজন। এর পর এলাকাবাসী সেলিনাকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়বহ ছিল যে তা দেখে চিকিৎসকরা দ্রæত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে নির্যাতিতা সেলিনা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে থেকে পুলিশ জানতে পেরে রোববার সকাল ১১ টার দিকে গৌরীপুর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতনের মূল হোতা নাছিমা আক্তার(৩০), মা হাবিলা খাতুন(৫০) ও নাছিমার মেয়ে স্বর্ণা(১৫) কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনা জানার সাথে সাথেই পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতাসহ ৩জনকে আটক করে। পরে বাদীর এজাহারে এক জনের নাম না থাকায় এবং তার বয়স কম হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *