সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ১:০০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » গৌরীপুরে রাজনৈতিক প্রচারণার তোরণ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে

গৌরীপুরে রাজনৈতিক প্রচারণার তোরণ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য বিভিন্ন দিবসে নির্মিত তোরণ এখন অনেকটাই স্থায়ী রূপ নিয়েছে। উপলক্ষ্য বদল হলেও সড়কের ওপর থেকে তোরণ সরেনা, এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কের প্রশস্ততা, বাড়ছে যানজট। কিছু কিছু তোরণ সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনকেও ঝুকিঁপূর্ণ করে তুলেছে। মাঝেমধ্যে ঝড়-বাতাসে তোরণ ভেঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, উপলক্ষ শেষ হলেও সড়কের ওপর রয়ে যায় তোরণ। নতুন উপলক্ষের ব্যানার লাগানো হয় আবার ব্যানারে। বাঁশের খুঁটিতে নির্মিত এসব তোরণগুলো সংস্কার না হওয়ায় রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রচারণার এসব তোরণ এখন পথচারী ও যানবাহন চালকদের পথের কাঁটা হয়ে গেছে। কিন্তুু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে নজর দিচ্ছে না।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুঁরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের কালীপুর, পাটবাজার মোড়, কালীখলা, হারুনপার্ক, মধ্যবাজার, উত্তরবাজার, ভালুকা, বালুয়াপাড়া, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, উপজেলা সদরের বাইরে বোকাইনগর, রামগোপালপুর, কলতাপাড়া, গাজীপুর, চরশ্রীরামপুর, শ্যামগঞ্জ, শাহগঞ্জ, অচিন্তপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়কের ওপর বাঁশের খুঁটি দিয়ে নির্মিত প্রায় অর্ধ শতাধিক তোরণ পাওয়া গেছে। ঈদ শুভেচ্ছা, নির্বাচনী প্রচারণা, জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা এসব তোরণ নির্মাণ করেছে। এসব তোরণের কোনোটি প্রায় এক বছর ধরে, আবার কোনোটি ৬/৭ মাস ধরে সড়কের ওপর রয়েছে। বিভিন্ন উপলক্ষে শুধু লেখা-ব্যানার বদলে যায়। একাধিক ডেকোরেটর মালিক জানিয়েছেন, কোনো রাস্তায় ৩০ দিন একটি তোরণ রাখতে খরচ পড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর এর বেশি দিন রাখতে চাইলে তা দরদাম করে ঠিক করে নিতে হয়
গতকাল মঙ্গলবার সকালে খোঁজ নিয়ে গৌরীপুর থেকে ময়মনসিহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া বাজারের প্রবেশ পথের মোড় থেকে সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত ৮টি তোরণ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩টি তোরণ আওয়ামীলীগের এমপি প্রার্থী নাজনীন আলম, ডাঃ অধ্যাপক মতিউর রহমান ও অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের। বাকি ৫টি তোরণের কোনোটিতে কারো নাম, ব্যানার কিংবা ছবি না থাকায় কোনটা কার তোরণ এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, ওই ৫টি তোরণ সরকারদলীয় লোকজনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিলো। ঝড়ে তোরণের ব্যানার উড়িয়ে নিয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে সংস্কার না হওয়ায় তোরণের খুটিগুলো নড়বড়ে গেছে। ফলে ফের ঝড়-বাতাসের কবলে পড়ে তোরণ ধসে সড়কে দুঘর্টনা ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে, পৌর শহরের পাটবাজার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী শরীফ হাসান অনুর তোরণ ঝুঁকে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। হারুণ পার্ক এলাকায় আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভীর তোরণের অবস্থাও খারাপ। মধ্যবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী নাজনীন আলমের তোরণের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে সড়কের দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজনীন আলমের স্বামী ফেরদৌস আলম বলেন, উপজেলা সদরে আমাদের নির্বাচনী প্রচরাণার অনেক তোরণ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুকিপূর্ণ তোরণগুলো সংস্কার করা হবে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার মোড় থেকে ভালুকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থীদের ১০টি তোরণ ছিলো। এরমধ্যে গত সপ্তাহের ঝড়ে ভালুকা ও মধ্যবাজারে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ড. সামীউল আলম লিটনের ২টি তোরণ ধসে পড়ে। গত শুক্রবার বিকালে প্রচন্ড ঝড়ে মধ্যবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ও ডাঃ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের তোরণ ধসে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জানতে চাইলে ডাঃ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ঝড়ের কারণে আমার অনেক তোরণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর সড়কের ওপর ধসে পড়া তোরণটি সড়িয়ে নেয়া হয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও এলিশ শরমীন বলেন, খোঁজ নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ তোরণগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *