রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮, ২:০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
Home » জাতীয় » গণবিরোধী সরকারের জনকল্যাণমূলক বাজেট দেয়ার কোনো কারণ নেই

গণবিরোধী সরকারের জনকল্যাণমূলক বাজেট দেয়ার কোনো কারণ নেই

অনলাইন ডেক্স :
গণবিরোধী সরকারের কাছ থেকে কেউ ভালো ও জনকল্যাণমুখী বাজেটের প্রত্যাশা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গণবিরোধী কোনো সরকারের জনকল্যাণমূলক বাজেট দেয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারপরও আমরা বাজেট না দেখে কিছু বলতে পারব না। আগামীকাল আগে বাজেট পেশ হোক তারপর এটা নিয়ে বলা যাবে। গতকাল নয়া পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘বিগত দশ বছরে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি’- বলে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রিজভী বলেন, ‘কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানটা নিশ্চয় সবার মনে আছে। এই স্বপ্নলোকের চাবি আছে অর্থমন্ত্রীর হাতে, তাই তিনি এই ধরনের উদ্ভট কথাবার্তা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সফর নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে। কিন্তু ভেতরের বক্তব্য শুনলে অন্যকিছু বোঝা যায়। সফর শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি তা ভারত সারাজীবন মনে রাখবে। আমরা কিন্তু তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি, এর কোনো প্রতিদান চাই না।’ অথচ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদান চেয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে তবে জনগণের জানার অধিকার আছে, ভারতের কাছে কী প্রতিদান চাওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কী আশ্বাস পাওয়া গেছে। রিজভী বলেন, বছর খানেক আগেও প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একগুঁয়েমির অজুহাত দেখিয়ে তিস্তার পানির কোনো প্রাপ্তিই ঘটেনি। সেসময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬২ দফার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। সেখানে চুক্তি ও সমঝোতার স্মারকের সংখ্যা ছিল ২২টি। অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে টু শব্দটিও করেনি। যৌথ বিবৃতিটিও প্রকাশের কোনো আগ্রহ দেখাননি। কোনোকিছু ঢাকতে গেলে ঢাকনির ভেতর থেকে কোনো না কোনোভাবে গোপন বিষয়টি বেরিয়ে আসবেই। স্বাধীন দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতায় উভয় পক্ষের প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুভঙ্করের ফাঁকি আর ভারতকে সব দিয়ে দেয়া হয়েছে উজাড় করে। রিজভী বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে- ‘শেখ হাসিনা জানিয়েছেন তাঁর সরকার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লীকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চায়।’ আসলে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে- শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চাচ্ছেন ভারতের কাছ থেকে। ভারতের কাছ থেকে এই প্রতিদানই আশা করেন, অন্য কিছু নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রেম একেবারে ওয়ান ওয়ে। ওয়ান ওয়ে ট্রাফিকের প্রেম কখনো ভালো হয় না। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিলে চরমপন্থার উদ্ভব হয়। এটা দেশে দেশে প্রমাণিত। বিষয়টি সবার মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের ক্ষমতাসীন মহলকে বার্তা দিয়েছেন- মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সরাতে বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে পশ্চিমে ও পূর্বে-দুদিকেই পাকিস্তানকে নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে। ভারত তাদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুমাত্র জনসমর্থনহীন একটি সরকারকে টেকানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকারকে অবজ্ঞা করে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। রিজভী বলেন, ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে তারা যদি বাংলাদেশের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনাকে ঠেকাতে ভ্রান্তনীতি গ্রহণ করে, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে তাতে বাংলাদেশের জনগণের মনে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নই হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেই জনগণের কাছে বিবেচিত হবে। আর বাংলাদেশের প্রতি ভারতের এই নীতি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে শুধু ভারতের পশ্চিমে নয়, পূর্বে স্বাধীন বাংলাদেশেও কাশ্মীরের ন্যায় পরিস্থিতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করা ভারতের জন্য কী উচিত হবে? মনে রাখা দরকার মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নিলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলাদেশ সীমান্ত খোলা থাকবে অথচ ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া উঠবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে বাংলাভাষীদের ঠেলে দেয়ার টালবাহানা, তিস্তার আশ্বাস ঝুলে থাকা, বিপর্যস্তকর রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের সহানুভূতি না পাওয়া-এভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয় না। ভারতের পত্রিকায় যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রেম একেবারে ওয়ান ওয়ে। ওয়ান ওয়ে ট্রাফিকের প্রেম কখনো ভালো হয় না। এটা মনে রাখতে হবে। রিজভী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন ক্রসফায়ার তন্ত্রে বন্দি। মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ার দেয়া হচ্ছে কিন্তু মাদকের হোতারা অবলীলায় দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। বলছে ওমরা করতে যাচ্ছি। ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মৌলানা আব্দুল মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *