সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮, ১২:৪১:০০ পূর্বাহ্ণ
Home » অপরাধ » খোকসার মেধাবী ছাত্রীর আত্মহত্যার আগে লেখা সুইসাইড নোটে মামার শ্বশুরের লালসার শিকার হয় সে

খোকসার মেধাবী ছাত্রীর আত্মহত্যার আগে লেখা সুইসাইড নোটে মামার শ্বশুরের লালসার শিকার হয় সে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া খোকসা ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রীর আত্মহননের ৫ দিন পর খাতায় লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট থেকে আত্মহত্যা রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।
প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান শাখার মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া তরনী গত শনিবার রাতে নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ অন্ধকারে ঢেকে যায়। আত্মহত্যার ৫ দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে খাতার গাদার মধ্যে একটি খাতার পাতা উল্টাতেই ছাত্রীর আত্মহত্যার আগে লেখা একটি সুইসাইড নোট পওয়া যায়। তার লেখা নোটে আপন মামার শ্বশুরের লালসার শিকার হয়েছে বলে জানা যায়। নোটের নরপশুর বিচারের দাবিও করে গেছে ওই মেধাবী ছাত্রী।
আত্মহননকারী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থ্য আপন খালাকে দেখতে কুষ্টিয়া জেলা শহরে যাওয়ার জন্য গত শুক্রবার বিকালে মামার শ্বশুর শাহীনের মোটর সাইকেলে রওনা হয়। কিছ দূর যাবার পর নতুন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা বলে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রটিকে। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাহীন তার পশুবৃত্তি চরিতার্থ করে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহীন নিজে ছাত্রীটিকে বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে যায়। পরের দিন শনিবার সন্ধায় নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া তরনী আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। কিন্তু পরিবারের লোকেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। নিহত মেধাবী কলেজ ছাত্রীর বাবা আজমল হোসেন খোকসা পৌরসভায় চাকুরি করেন। তার বাড়ি উপজেলার কমলাপুর গ্রামে।
মেয়ের আত্মহত্যার পর মা রেশমী পারভিন বন্যা একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে অনেকটা হত বিহ্বল হয়ে পরেছেন। কারো সাথে কথা বলেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়ের সুইসাইড নোট পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে প্রথম কথা বললেন তিনি। নরপশু আত্মীয় শাহীনের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসার রাতেই মেয়ে তরনী ঘটনা খুলে বলেছিল তাকে। জানিয়েছিল কি ভাবে, কোথায় কি ঘটেছিল। কিন্তু সব ঘটনা শুনে ইজ্জতের ভয়ে মা তার নিজের বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে রাখে কথা গুলো। এরই মধ্যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তরনী।
নিহত ছাত্রীর চাচা ইস্তেকবাল চয়ন জানান, তারা মেয়ের আত্মহননের কারণ বুঝতে না পেরে অপমৃত্যুর মামলা করেছে। সুইসাউড নোট পাওয়ার পর তারা সেটি থানায় জমা দিয়েছে। এখন আইন গত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তরনী’র আত্মহত্যার পর থেকে শাহীন গা ঘাকা দিয়েছে বলে সে জানায়।
এ ব্যাপারে খোকসা হেল্থকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাটনার শাহীনের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ক্লিনিকের রিসিপশন্ থেকে জানানো হয়। রবিবার সকাল থেকে শাহীন পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষন ও হত্যা ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকে সে আর ক্লিনিকে আসেনি।
এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, নিহত মেয়ের বাবা মা আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে থানায় এসে কথা বলতে চেয়েছেন। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *